আবারও ন্যাটো জোটের মিত্রদের ওপর নিজের ক্ষোভ ঝাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ন্যাটো প্রসঙ্গে ট্রাম্পের নতুন মন্তব্যে এই জোটের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার মিয়ামিতে এক বিনিয়োগ ফোরামে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ন্যাটোর পাশে থাকা এখন আর ‘অপরিহার্য নয়’। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউরোপীয় ন্যাটো দেশগুলো এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রয়োজনীয় বস্তুগত সহায়তা দিতে অস্বীকার করেছে।
গত মাসের শেষদিকে ইরানের ওপর হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র তার ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে কোনো আলোচনা করেনি। এমনকি এই অভিযানের বিরোধীতা করেছেন জোটের অনেক শীর্ষ নেতাই।
এই বিষয়টি উল্লেখ করে ট্রাম্প ক্ষোভের সাথে বলেন, ‘আমরা সব সময় তাদের পাশে থাকতাম। কিন্তু এখন তাদের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের আর সেখানে থাকার দরকার নেই, তাই না?’
তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, ‘এটা কি ব্রেকিং নিউজ মনে হচ্ছে? হ্যাঁ জনাব, আমার মনে হয় আমরা এইমাত্র একটি ব্রেকিং নিউজ পেলাম। কিন্তু এটাই বাস্তব। আমি বরাবরই বলে আসছি—তারা যদি আমাদের পাশে না থাকে, তবে আমরা কেন তাদের পাশে থাকব?’
প্রসঙ্গত, ন্যাটো চার্টারের ‘অনুচ্ছেদ ৫’ অনুসারে, কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র আক্রান্ত হওয়া মানে পুরো জোটের ওপর হামলা। কিন্তু ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল ভিত্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও ট্রাম্প প্রতিরক্ষা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ ব্যয় না করা ন্যাটো দেশগুলোকে আক্রমণ করতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উৎসাহিত করেছিলেন।
২০২৫ সালে ইউরোপীয় নেতাদের সাথে তার সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও ২০২৬ সালে এসে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর থেকে ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের (ন্যাটো সদর দপ্তর) মধ্যে সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে।
ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ট্রান্স-আটলান্টিক জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের এই সংকটময় সময়ে ন্যাটোর প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অনীহা বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে।