যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আর ইরানের অভ্যন্তরে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে না। আজ বৃহস্পতিবার ফ্রান্সভিত্তিক সংবাদ সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
বুধবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। রুবিও বলেন, ‘ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে আমরা আর টানা হামলা চালাচ্ছি না, কারণ এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে।’
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে। রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পভিত্তি ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা, ড্রোনের মজুত হ্রাস করা এবং দেশটির অবশিষ্ট বিমান ও নৌ সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে প্রথম হামলার পর শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে দেয়। এর জবাবে ইরান অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।
তবে রুবিওর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তাদের দাবি, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি এবং পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি সারা জ্যাকবস বলেন, ‘অভিযানের নাম পরিবর্তন করলেই বাস্তবতা বদলে যায় না। হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে এবং আমাদের সেনাসদস্যরা এখনো ঝুঁকির মধ্যে আছেন।’
বুধবার ইরানের হামলায় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একজন নিহত ও ৬৩ জন আহত হওয়ার ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। একই সময়ে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা বাহরাইনেও রাতভর ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
শুনানিতে রুবিও ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার বিষয়েও আইনপ্রণেতাদের অবহিত করেন। তিনি জানান, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে এখনো কোনো শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে অস্ত্রমানের কাছাকাছি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে, পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আনতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে হবে।
রুবিও বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে যেসব নথি আদান-প্রদান হয়েছে, সেখানে বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আজ সকাল পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া যায়নি।’
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অর্থবহ আলোচনায় বসার আগে দেশটির জব্দ করা ১২০০ কোটি ডলারের সম্পদ মুক্ত করতে হবে।