লেবানন ও হেজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণ ভালো লাগেনি বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি না থাকলে ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা নিয়ে ইসরায়েলের সমালোচনার মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে এল।
ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র না থাকলে ইসরায়েল থাকত না। আর আমি না থাকলেও ইসরায়েল থাকত না, কারণ আমি যা করেছি, তা করতে অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট প্রস্তুত ছিলেন না। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখন লেবাননের বিষয়ে বিবিকে (নেতানিয়াহুর ডাকনাম) আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘লেবানন ও হেজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের আচরণ আমার ভালো লাগেনি। তাদের আরও দ্রুত কাজটি শেষ করা উচিত ছিল। বিষয়টি অনেক বেশি দীর্ঘায়িত হয়েছে। এমন হলে ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের সমঝোতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
এর আগে, কাতারের আমিরের সঙ্গে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের খুব বেশি আর্থিক মূল্য না থাকলেও, ‘মনস্তাত্ত্বিক কারণে’ যুক্তরাষ্ট্রের সেই মজুতকৃত ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইরানের পুরো পারমাণবিক স্থাপনাই ধ্বংস হয়ে গেছে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া একটি জটিল কাজ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, এ ধরনের কাজ করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম শুধু চীনের কাছেই রয়েছে। তবে তাঁর মতে, যেভাবেই হোক, এই কাজটি করা প্রয়োজন।
ট্রাম্প জানান, তাঁর বিশ্বাস ইরানের আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা নেই। তবে দেশটি যদি আবারও সেই চেষ্টা করে, তাহলে তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে ছিল এবং তারা সেই অস্ত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করত। আমার কারণেই এখন ইসরায়েলের অস্তিত্ব রয়েছে।’
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে বিনিয়োগ করার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।