ইরানের ভয়ে খাবারের ট্রাকে চড়ে পালান ট্রাম্প!

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্ট। কথায় কথায় ইরানকে হুমকি, সামরিক শক্তির দাপট আর শত্রুদের উদ্দেশে একের পর এক কড়া বার্তা দেওয়াই তাঁর চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু সেই ট্রাম্পই নাকি এবার ইরানের হামলার ভয়ে বিমানে না উঠে লুকিয়েছিলেন খাবারের ট্রাকে।

শুনে থ্রিলার সিনেমার গল্প মনে হলেও আসলেই এমনটা ঘটেছিল ট্রাম্পের তুর্কি সফরে। যে প্রেসিডেন্টের জন্য রয়েছে বিশাল এয়ারফোর্স ওয়ান, অত্যাধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আর চারপাশে নিরাপত্তার বিশাল বহর— সেই ট্রাম্পকেই তুরস্ক থেকে বের করার সময় ব্যবহার করা হলো বিমানবন্দরের ক্যাটারিং ট্রাক।

ঘটনাটি ঘটে গত মাসে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায়। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফেরার সময় ক্যামেরার সামনে ট্রাম্পকে দেখা গেল পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে উঠতে। সাংবাদিকরা দেখলেন, ট্রাম্প উঠেছেন। সবকিছু স্বাভাবিক। ব্যাস— গল্প শেষ! কিন্তু না!

আসল গল্প তখনও শুরু হয়নি। ট্রাম্প বিমানে ওঠার কয়েক মিনিট পরই শুরু হয় গোপন অপারেশন। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে ওই বিমান থেকে গোপনে বের করে একটি বিমানবন্দরের ক্যাটারিং ট্রাকে তোলা হয়।

ট্রাকটি ট্রাম্পকে নিয়ে যায় সি-৩২এ মডেলের আরেকটি ছোট সামরিক বিমানের কাছে। সেখানেই উঠলেন ট্রাম্প। তারপর সেই ছোট সামরিক বিমানেই গোপনে ব্রিটেনের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। এদিকে সাংবাদিকরা? তাঁরা তখনও পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানে। ভাবছেন— ‘প্রেসিডেন্ট তো আমাদের সঙ্গেই আছেন!’

কিন্তু বাস্তবে প্রেসিডেন্ট তখন অন্য বিমানে আকাশে। এমনকি কিছু হোয়াইট হাউস কর্মীর কাছেও ট্রাম্পের আসল অবস্থান গোপন রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে এসেছে। আরও মজার বিষয় হলো, সাংবাদিকদের বিমানের জানালার শেড বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। বাইরে কী হচ্ছে, সেটা যাতে সহজে দেখা না যায়। কিন্তু আসল টুইস্ট তখনও সাংবাদিকদের জানা নেই। কারণ ট্রাম্প তো সেই বিমানে ছিলেনই না!

এখন প্রশ্ন— এত বড় আয়োজন কেন? কারণ এটি কোনো সাধারণ নিরাপত্তা মহড়া ছিল না। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান থেকে ট্রাম্পকে হত্যার একটি বিশ্বাসযোগ্য হুমকির আশঙ্কা থেকেই এই গোপন অপারেশন চালানো হয়েছিল। আর তাই প্রেসিডেন্ট গোপনে অন্য বিমানে ব্রিটেনে যান। এরপর পুরোনো এয়ারফোর্স ওয়ানও সেখানে পৌঁছায়। পরে ট্রাম্পকে আবার প্রকাশ্যেই দেখা যায়। বাইরে থেকে দেখে মনে হয়েছে— তিনি যেন সেই বিমানেই এসেছেন। অর্থাৎ পুরো পরিকল্পনার উদ্দেশ্য ছিল একটাই— ট্রাম্প আসলে কোথায় আছেন, সেটা যেন কেউ নিশ্চিতভাবে জানতে না পারে।

ঘটনাটা শুধু 'ট্রাম্প খাবারের ট্রাকে উঠেছিলেন'— এমন মজার গল্প নয়। এর পেছনে রয়েছে অনেক বড় বাস্তবতা। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যত তীব্র হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কাও তত গুরুত্ব পেয়েছে। আর সেই ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত প্রেসিডেন্টকেও শেষ পর্যন্ত নিতে হয়েছে এমন এক কৌশল— যেটা অনেকের কাছেই একদম অবিশ্বাস্য।

যে ট্রাম্প কথায় কথায় ইরানকে ভয় দেখান— সেই ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্যই খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে পালাতে হলো।