ইরানে ছয় মাসের সামরিক আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলারে। তাই যুদ্ধ বন্ধে তৃতীয়বারের মতো বিল পাস করেছে মার্কিন কংগ্রেস। সামরিক ব্যয় ও অর্থনৈতিক সংকটে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ট্রাম্প প্রশাসন। অগ্নিপরীক্ষার সামনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২২০–২০৪ ভোটে পাস হয়েছে ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বার প্রস্তাবের পক্ষে রায় দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটোর কারণে এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস বা সিবিওর প্রতিবেদন বলছে, এই সংঘাতে এরই মধ্যে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের। আর পেন্টাগনের তথ্যমতে, শুধু অস্ত্র বাবদ ব্যয় ২ হাজার ২৩০ কোটি ডলার। প্রতি মাসে খরচ বাড়ছে ৩০০ কোটি ডলার করে।
এই খরচের বড় অংশই যাচ্ছে মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেমের পেছনে। যুদ্ধে অন্তত ৫২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। প্যাট্রিয়ট, থাড আর নেভি ইন্টারসেপ্টরের অবস্থাও বিপর্যস্ত। সামরিক সক্ষমতা আগের অবস্থায় নিতে অন্তত ৫ বছর লাগবে।
একদিকে দক্ষিণ চীন সাগরের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বাড়ছে তেলের দাম। সবকিছুর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে মার্কিন অর্থনীতিতে। মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছে যাচ্ছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশে।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনে কৌশলগত ঘাটতি আর শিল্প খাতের প্রতিবন্ধকতাও সামনে এসেছে। তাই ট্রাম্পের তথাকথিত যুদ্ধবিরোধী অবস্থান আর বেপরোয়া নীতি নিয়ে সমালোচনা শুরু করেছে ডেমোক্র্যাটরা। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির নীতিনির্ধারকরাও পড়েছেন গভীর সংকটে।