যুক্তরাষ্ট্রে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্ব অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর লক্ষ্য থাকবে ট্রাম্পের। আর তাইওয়ানের সঙ্গে মার্কিন অস্ত্রচুক্তি বাতিলে জোর দেবেন জিনপিং বলে আশা বিশ্লেষকদের।
আলোচনার টেবিলে বসছে দুই বিশ্ব পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। তাই সেদিকেই নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা।
একদিকে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো ১ লাখ কোটি ডলারের বাণিজ্যের রেকর্ড গড়ছে শি জিনপিং সরকার। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আর্থিক ক্ষতির হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই মুহূর্তে চীনের অগ্রগতি বজায় রাখাটাই জিনপিংয়ের জন্য বেশি জরুরি। তাই অর্থনীতিকে আরও সুসংহত করতে একটি আদর্শ বাণিজ্য চুক্তিকেই প্রাধান্য দেবেন তিনি।
তবে তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের স্বার্থের দ্বন্দ্ব এখনো অমীমাংসিত। তাই চীনশাসিত অঞ্চলটিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্রচুক্তিকেই দরকষাকষির প্রধান হাতিয়ার করতে চাইবেন ট্রাম্প।
যদিও বেইজিং স্পষ্ট জানিয়েছে, তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনের অবস্থান ঠিক থাকলেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেবে তারা। তাই আশা করা যাচ্ছে বাণিজ্য বিরোধ আর কৌশলগত প্রতিযোগিতা সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন দুই নেতা।
টনি ব্লেয়ার ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল চেঞ্জের উপদেষ্টা রুবি ওসমান বলেন, ‘চীনের জন্য তাইওয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। মার্কিন অস্ত্র চুক্তি স্থগিত থাকায় বেইজিং এখন বেশ সন্তুষ্ট। পরবর্তী ধাপে তারা এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে আরও পরিবর্তন আনার জন্য জোর দেবে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সেটা ট্রাম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’
বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক শক্তিশালী অবস্থান থেকেই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বেইজিং। তাই ওয়াশিংটনের চাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা অনেকটাই কম। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই দ্বিপক্ষীয় ভঙ্গুর বাণিজ্য চুক্তির মেয়াদ বাড়াতেই জোর দেবে দুপক্ষ।