ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে ভারতের দিল্লিতে জড়ো হয়েছে জোটের ১১ সদস্যের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান। তবে এসব ছাপিয়ে আলোচনায় রয়েছে একাধিক সাইডলাইন বৈঠক। ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন আধিপত্যের সমালোচনা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। অন্যদিকে, পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের অবসানের কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। উল্টো নতুন করে তৈরি হচ্ছে নানা সংকট। এমন পরিস্থিতিতে ভারত সফর করছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ব্রিকস সম্মেলন শুরুর আগে গত শুক্রবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন তিনি। এর মধ্যে মূল আলোচনায় ছিল রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠক।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন আধিপত্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ডলারের প্রভাবের সমালোচনা করেন ইরানি প্রেসিডেন্ট।
গত শুক্রবার ব্রিকস বিজনেস ফোরামে বক্তব্য দেন পেজেশকিয়ান। এ সময় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ না চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না বলে সাফ জানান তিনি।
মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘বর্তমান বিশ্ব জটিল ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্রিকস দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। সে সঙ্গে কোনো দেশ যেন আর্থিক ব্যবস্থায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অন্য দেশের বৈধ বাণিজ্যে বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে জন্য ব্রিকসকে কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।’
একই আয়োজনে পশ্চিমাদের এক হাত নেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তিনি বলেন, অশোভন উপায়ে হারানো নেতৃত্ব ফিরে পাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছে পশ্চিমা জোট।
ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের পশ্চিমা প্রতিদ্বন্দ্বীরা যেকোনো উপায়ে তাদের হারানো নেতৃত্ব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। অর্থনৈতিক নেতৃত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যে পশ্চিমা দেশগুলো বিভিন্ন স্থাপনা ও পাইপলাইন ধ্বংস এবং জাহাজ বাজেয়াপ্ত করার মতো পদক্ষেপ নিচ্ছে। আরোপ করা হচ্ছে বেইআইনি নিষেধাজ্ঞা। যা অশোভন আচরণ।’
পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মোদি। বৈঠকে মোদি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পক্ষে দিল্লি।
এর আগে, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১০ হাজার কোটি ডলারে নিয়ে যেতে আগ্রহ জানান পুতিন ও মোদি। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও বিরল খনিজ উপাদান খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন দুই নেতা।