তাপপ্রবাহে নাকাল ইউরোপ। কোথাও অত্যধিক তাপমাত্রা, আবার কোথাও শুরু হয়েছে দাবানল। এই তাপপ্রবাহের কারণে গতকাল ইতালিতে দুজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। আজ জানা গেল, স্পেন ও ফ্রান্সে দুজন করে মোট চারজন মারা গেছেন অত্যধিক তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর মধ্যে স্পেনে দাবানলের কারণে মারা গেছে দুজন। কর্তৃপক্ষ বলছে, কাতালুনিয়াতে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে গতকাল দুজন মারা গেছে। আর তাপপ্রবাহের কারণে দুজন মারা গেছে ফ্রান্সে। এ ছাড়া দেশটিতে তাপপ্রবাহের কারণে অসুস্থ ৩০০ জনকে নেওয়া হয়েছে হাসপাতালে।
অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে সংকট দেখা দেওয়ার শঙ্কায় সুইজারল্যান্ডে বন্ধ রাখা হয়েছে পারমাণবিক চুল্লি। দাবদাহের কারণে গতকাল ইতালির ১৬ এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছিল। আজ এর সঙ্গে আরও দুটি এলাকা যুক্ত করা হলো। এ ছাড়া তুরস্কে দাবানল এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্ধারিত সময়ের আগে সেখানে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের দাবানল।
সবচেয়ে উষ্ণ জুন মাস দেখল স্পেন। এ তালিকায় রয়েছে ফ্রান্সও। এর আগে জুন মাসের তাপমাত্রায় রেকর্ড হয় যুক্তরাজ্যেও। ইতালিতে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁই ছুঁই। তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াচ্ছে জার্মানিতে।
স্কটল্যান্ডে দেখা দিয়েছে দাবানল। উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সেখানকার কিছু রাস্তা। স্পেনে সম্প্রতি তাপমাত্রা ছিল ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ইতালিতে সারা দেশে জরুরি বিভাগগুলোতে হিটস্ট্রোকের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা গেছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই বয়স্ক ব্যক্তি, ক্যানসার রোগী বা গৃহহীন বলে ইতালীয় সোসাইটি অফ ইমার্জেন্সি মেডিসিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মারিও গুয়ারিনো সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন।
রোমে ৭০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য শহরের সুইমিং পুলে বিনামূল্যে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের একজন ফার্মাসিস্ট রয়টার্সকে বলেছেন, দিনের সবচেয়ে গরমের সময়ে বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়েছ মানুষকে। এরপরও হিটস্ট্রোকের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।