ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে জনস্বাস্থ্য সংকট

ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৮৯ জনে। আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৪০ জন। ধ্বংসস্তূপের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এখন দেশটির জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জনস্বাস্থ্য সংকট। আশ্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়ের পাশাপাশি নিরাপদ পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ায় সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।

২৪ জুন ভেনেজুয়েলায় পরপর আঘাত হানে শক্তিশালী দুইটি ভূমিকম্প। এতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বিস্তৃণ এলাকা। সময় যত গড়াচ্ছে ততোই দীর্ঘ হচ্ছে হতাহতের তালিকা। সেইসাথে বাড়ছে বাস্তুচ্যুত মানুষের ভোগান্তি। 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আমেরিকা অঞ্চলের শাখা প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশন সতর্ক করে জানিয়েছে যে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ভেনেজুয়েলার উত্তর উপকূলীয় অঞ্চলে বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, অপর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবার অভাবে বাড়ছে উদ্বেগ। 

পাহো এর পরিচালক জার্বাস বারবোসা বলেন, ‘আগামী দিনগুলোতে ভেনেজুয়েলার সামনে সবচেয়ে বড় সংকট হতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি। শুধু ভূমিকম্পজনিত আঘাত থেকেই নয়, বরং স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হওয়া, অতিরিক্ত ভিড়, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ঘাটতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সেইসাথে টিকাদান ও নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়াও সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্য লা গুয়াইরা। এখানকার কাতিয়া লা মার সম্প্রদায়ের মধ্যেই এরইমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চর্মরোগ ও ডায়রিয়ার প্রকোপ। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ দীর্ঘস্থায়ী রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও বেড়েছে ওষুধের সংকট।

জার্বাস বারবোসা বলেন, ‘আঘাতজনিত রোগীর প্রাথমিক বৃদ্ধি স্থিতিশীল হলেও স্বাস্থ্য ঝুঁকি এখনও শেষ হয়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলা এখন একটি নতুন এবং সমান সংকটপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করছে। অবকাঠামো ভেঙে পড়ায় চিকিৎসার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো।’

ভেনেজুয়েলার ১৩ লাখ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় প্রায় ৩০ কোটি ডলারের তবিল চেয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, ভেনেজুয়েলায় বর্তমানে যে কঠিন পরিস্থিতি চলছে বিশ্বের যেকোনো সরকারের পক্ষেই তা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন।