যুদ্ধবিরতিতে ইউক্রেনেরই ক্ষতি বেশি: অস্ত্র নির্মাতা

রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলে ইউক্রেনই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বে। ইউক্রেনীয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্টের প্রধান ডেনিস স্টিলারম্যান এই দাবি করেছেন। তাঁর মতে, যুদ্ধবিরতির পর পশ্চিমা বিশ্ব কিয়েভকে ভুলে যাবে, আর এই সুযোগে পুরো ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড দখল করবে রুশ বাহিনী। এদিকে ইউক্রেন সংঘাত অবসানে পশ্চিমারা সত্যিই আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে মস্কো।

ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রিয় অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফায়ার পয়েন্ট। রুশ ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে বিভিন্ন ধরনের দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে এই প্রতিষ্ঠান।

রাশিয়া-ইউক্রেন সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম ‘লিগানেট’-এ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ফায়ার পয়েন্টের প্রধান ডেনিস স্টিলারম্যান। এতে তিনি বলেন, মস্কোর সাথে যুদ্ধবিরতি হলে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে কিয়েভ। ইউক্রেনের রাষ্ট্রসত্তা হুমকির মুখে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্টিলারম্যানের মতে, যুদ্ধবিরতির পর কিয়েভকে তার সমর্থকেরা পরিত্যাগ করবে এবং ভুলে যাবে। এ ছাড়া পশ্চিমা বিশ্ব আর্থিক ও সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। আর এই সুযোগে রাশিয়া বাকি ইউক্রেনও দখল করে নেবে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এর আগেও বিভিন্ন দেশের সাথে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে বলে মন্তব্য করেন স্টিলারম্যান। ভূখণ্ড রক্ষা ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তার কথা বলে সেসব দেশকে তারা বিপদে ফেলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে ইউক্রেন সংঘাত অবসানে পশ্চিমারা সত্যিই আগ্রহী কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এ সময় পশ্চিমা নেতারা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া-ইউক্রেনের শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর প্রতিটি প্রচেষ্টাকে দুর্বল করে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

২০২২ সালেও মস্কো-কিয়েভ সমঝোতায় পৌঁছেছিল দাবি করে ল্যাভরভ বলেন, প্রকাশ্যে সেটি নস্যাৎ করে দেয় ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা।