তুরস্কের সতর্কতা

ইউক্রেনে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে রাশিয়া!

রাশিয়ার অভ্যন্তরে ইউক্রেনের অব্যাহত ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলার মুখে রাশিয়া ‘শেষ ব্যবস্থা’ হিসেবে পারমাণবিক হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর এক অনুষ্ঠানে তিনি রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন। 

ফিদান বলেন, ‘সম্মুখভাগের যুদ্ধ যখন ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ে রূপ নেয়, তখন প্রশ্নটা আর যুদ্ধে জয়-পরাজয়ের থাকে না, বরং জাতি হিসেবে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ওপর এসে পড়ে। তখন আপনার হাতে থাকা শেষ সুযোগটিই ব্যবহার করবেন।’

পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক মন্তব্য করে ফিদান জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পশ্চিমা অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার রাশিয়া সফরের সময়ও মনে হয়েছে যে প্রশ্নটি উঠতে পারে, কারণ সেখানে জনগণও এমন কিছুর দাবি করছে বলে আলোচনা আছে। আমরা পশ্চিমাদের বিষয়টি জানিয়েছি এবং তারাও এটা নিয়ে সচেতন। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি পরিস্থিতি। মানুষ যেসব বিষয়ে ভাবছে যে ঘটবে না, শেষ পর্যন্ত সেগুলোই ঘটে যায়।’

এদিকে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই একে অপরের ভূখণ্ডে দূরপাল্লার হামলা মারাত্মকভাবে বাড়িয়েছে, যার ফলে বেসামরিক প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরেরও বেশি সময়ে অন্যতম বড় হামলায় রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, সোমবার ইউক্রেনের ওপরও রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের সীমান্তঘেঁষা একটি গ্রামে রুশ কামানের গোলার আঘাতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ৪৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে কতটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, সে বিষয়ে কিছু জানায়নি মস্কো। বিপরীতে, ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনী জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ১২৬টি ড্রোন ছুড়েছে রাশিয়া।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে নতুন করে প্রায় পাঁচ লাখ সেনা পাঠাতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

ইউক্রেনীয় গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে জেলেনস্কি জানান, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে রাশিয়ায় হতে যাওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর এই সেনা সমাবেশের পরিকল্পনা করছেন পুতিন।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের পর নিজের এক্স হ্যান্ডলে জেলেনস্কি লেখেন, ‘পুতিন এই যুদ্ধ থামাতে প্রস্তুত নন। আমাদের গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি নতুন সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরপরই তিনি এটি করতে চান।’