যুক্তরাষ্ট্রের চাপে নিজেদের মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার কথা ভাবছে ইউরোপ

বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি তেল ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ বিষয়ে ফ্রান্সের উত্থাপিত এক প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে ইইউভুক্ত দেশগুলো। বিষয় সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইইউ দেশগুলোর সরকারের উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্থাপন করে ফ্রান্স। সেখানে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের জরুরি মজুদ থেকে ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলোর পক্ষ থেকে আরও ৫০ মিলিয়ন (৫ কোটি) ব্যারেল ক্রুড বা অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার কথাও উল্লেখ আছে প্রস্তাবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বড় দেশগুলোকে ২০ দিনের মধ্যে তাদের মজুত থেকে ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল ডিজেল বাজারে ছাড়ার দাবি জানায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়, ইউরোপ যদি এই সিদ্ধান্ত না নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম স্বাভাবিক রাখতে তারা ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিতে পারে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথাও ভাবছেন বলে জানা গেছে। ফলে ওয়াশিংটনের সেই সম্ভাব্য পদক্ষেপ এড়াতেই ইউরোপ তড়িঘড়ি করে এই সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় নেমেছে।

সার্বিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে এখন দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যেই ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে হচ্ছে। একদিকে বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়া জ্বালানির দাম কমানো প্রয়োজন, অন্যদিকে পারস্য উপসাগরের চরম অস্থিরতার কারণে ভূ-রাজনৈতিক সংকটে নিজেদের জরুরি রিজার্ভ রক্ষা করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

ইউরোস্ট্যাটের মে ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল ডিজেল ছাড়া হলে তা হবে ইইউ-এর মোট জরুরি ডিজেল ও গ্যাসঅয়েল মজুদের প্রায় ১৭ শতাংশ। এই পরিমাণ জ্বালানি পুরো ইউরোপীয় ব্লকের বার্ষিক ডিজেল খরচের প্রায় ৩ শতাংশের সমান।

বেশ কিছু বড় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রথমত, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল পরিশোধনাগার (রিফাইনারি) ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তারা ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। এখানেই শেষ নয়। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ মজুদ ঠিক রাখতে চীনও অক্টোবর মাসের জ্বালানি রপ্তানি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, অতীতে ইউরোপ মূলত রাশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে ডিজেল আমদানি করত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা অনেকটাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা এখন নতুন চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছে।