ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভেঙে তৈরি করা রাম মন্দিরের বেশিরভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আজ সোমবার এটির উদ্বোধন করা হবে। অযোধ্যা বিরোধ মামলার রায়ের পর ধান্নিপুর গ্রামে একটি মসজিদ নির্মাণের আদেশ দেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই মসজিদের নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয়নি।
জানা গেছে, ধান্নিপুর গ্রামটি রাম মন্দির থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রামাজন্মা ভূমি তীর্থক্ষেত্র ফাউন্ডেশন’ যখন বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জায়গাটিতে রাম মন্দির নির্মাণে ব্যস্ত এবং মন্দিরের প্রথম ধাপের কাজ প্রায় শেষ করতে চলেছে, তখন মসজিদ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ জমিতে কাজ শুরুর কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না।
মসজিদটির নির্মাণের দায়িত্ব পায় ‘ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন’ (আইআইসিএফ)। সংগঠনটির প্রধান হাজী আরাফাত শেখ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, এই মসজিদের নির্মাণ কাজ পবিত্র রমজানের পর আগামী মে মাসে শুরু হবে। এই মসজিদটি তৈরি হতে তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।
কিছু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধারণা, তাদের দেবতা রামের জন্মস্থানেই বাবরি মসজিদটি তৈরি করা হয়েছিল। এ নিয়ে ১৯৯২ সালে হওয়া দাঙ্গায় ভারতে প্রায় ২ হাজার মানুষ প্রাণ হারান।
২০১৯ সালে অযোধ্যা মামলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিল যে, অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জায়গাটি একটি ট্রাস্টকে দেওয়া যেতে পারে এবং সেখানে একটি রাম মন্দির তৈরি করা যেতে পারে। একইভাবে, উত্তর প্রদেশের সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে বলা হয়, তাদেরকে পাঁচ একর জমি দেওয়া হবে, যেখানে তারা একটি মসজিদ তৈরি করতে পারবে।
মসজিদ তৈরির কাজ কেন হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে আইআইসিএফের প্রেসিডেন্ট জুফার আহমাদ ফারুকি বলেন, আমরা কারো কাছে যাইনি। মানুষও এর জন্য এখনও কিছু করছে না।
আইআইসিএফের সাধারণ সম্পাদক আতহার হুসেন বলেছেন, মসজিদটিতে মিনারের মতো আরও ঐতিহ্যবাহী বিষয় যুক্ত করে পুনরায় নকশা করতে হয়েছিল বলে নির্মাণ কাজ পিছিয়েছে। ওই কমপ্লেক্সে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।
হাজী আরফাত শেখ বলেন, ফান্ড তোলার জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে একটি ওয়েবসাইট চালু করা করা হবে। মসজিদটির নাম হবে মসজিদ মুহাম্মেদ বিন আব্দুল্লাহ। এটি রাসুলের নামে করা হচ্ছে।
মসজিদ নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়া এই ব্যক্তি বলেন, 'আমাদের প্রচেষ্টা ছিল মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণার অবসান ঘটিয়ে তা ভালবাসায় রূপান্তর করা। এই সমস্ত লড়াই বন্ধ হয়ে যাবে যদি আমরা আমাদের ভাল জিনিসগুলো শেখাতে পারি।'