আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের সূচকে ক্রমাগতভাবে পিছিয়েছে ভারত। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের মতো করে গণতন্ত্রের সূচক বানাচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। শিগগিরই তরা এই সূচকের কাঠামো প্রকাশ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ফ্রিডম হাউসের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সূচকগুলোতে ২০২১ সালে ভারতকে মুক্ত গণতন্ত্র থেকে আংশিকভাবে মুক্ত গণতন্ত্র অবস্থানে নামিয়ে আনার পরই মোদি সরকার বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করে। সুইডেনে অবস্থিত ভি-ডেম ইনস্টিটিউট ভারতের গণতন্ত্রকে নির্বাচনী স্বৈরাচার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।
ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) ২০২০ গণতন্ত্র সূচকে ভারতের অবস্থান ছিল ৫৩তম । সংস্থাটির গণতন্ত্র সূচকে ভারতের র্যাঙ্কিং ২০১৬ এবং ২০২০ সালের মধ্যে ব্যাপক পতন হয়। অবশ্য এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সবশেষ সূচকে ভারতের অবস্থান ছিল ৪১তম। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২২ সালে দেশটি ৪৬তম হয়েছিল। তবে ভারত সরকার এই আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজস্ব গণতান্ত্রিক সূচক করতে নয়াদিল্লির দ্য অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ) নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগেও ভারত সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এই প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুজন জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করার পর এখন কীভাবে সূচক করা হবে, সেই কাঠামো প্রস্তুত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিজেদের প্রতিষ্ঠান দিয়ে করানো এই সূচক নয়াদিল্লির গণতন্ত্র সুসংহত হচ্ছে– এমন দাবির প্রতিফলন থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভারতের এক শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত জানুয়ারিতে নীতি-সংক্রান্ত সরকারি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এনআইটিআই অযোগের আয়োজনে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গণতন্ত্রের র্যাঙ্কিং প্রকাশ করবে ওআরএফ। শিগগিরই নতুন র্যাঙ্কিং সিস্টেম প্রকাশ করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।
গত শনিবার ভারতের জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, ১৯ এপ্রিল থেকে ৭ দফায় ভোট হবে। ভোট গণনা করা হবে ৪ জুন। নির্বাচনের আগে ভারতের নিজস্ব গণতন্ত্রের সূচক প্রকাশ হবে কি না তা নিশ্চিত করে কর্মকর্তা জানাতে পারেননি।