ভারতের আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডার কল্যাণে দলটির ভেতরে ফাটল আরও চওড়া হওয়ার ইঙ্গিত মিলল। পাঞ্জাব প্রদেশের স্বার্থ রক্ষায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন, রাঘবের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তাঁর দলেরই শীর্ষ নেতারা। এবারে এই সমালোচনার মোক্ষম জবাব দিলেন রাজ্যসভায় পাঞ্জাবের প্রতিনিধিত্বকারী সাংসদ রাঘব চাড্ডা।
রোববার নিজের ভেরিফায়েড এক্স (পূর্বের টুইটার) অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে রাঘব লিখেছেন— 'সিনেমা এখনও বাকি আছে (পিকচার অভি বাকি হ্যায়)'।
এক্স-এ রাঘব চাড্ডা যে ভিডিওটি পোস্ট করেছেন, তাতে রাজ্যসভায় পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন সময় তিনি যে সকল বক্তব্য দিয়েছেন তার একটি সংকলন রয়েছে।
এই সংকলনটিতে পাঞ্জাবের ভূগর্ভস্থ জলস্তর হ্রাস, ভারতের প্রয়াত স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগত সিংকে 'ভারত রত্ন' খেতাব প্রদান, কৃষকদের জন্য ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের (এমএসপি) আইনি নিশ্চয়তা, নানকানা সাহেব করিডোরের (ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী শিক ধর্মাবলম্বীদের তীর্থযাত্রা) মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজ্যসভায় দেওয়া তাঁর বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ স্থান পেয়েছে।
এক্স-এ ভিডিওটি শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, 'আমার সেই সমস্ত আপ (আম আদমি পার্টি) সতীর্থদের উদ্দেশ্যে, যাঁদেরকে জোর করে বলানো হয়েছে যে, "রাঘব চাড্ডা সংসদে পাঞ্জাবের ইস্যু তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন"— এটি কেবল একটি ট্রেলার মাত্র... সিনেমা এখনও বাকি আছে (পিকচার অভি বাকি হ্যায়)।'
পোস্টে তিনি আরও আবেগপ্রবণ হয়ে যোগ করেন, পাঞ্জাব তাঁর কাছে কেবল রাজনীতির বিষয় নয়, বরং তাঁর 'ঘর, কর্তব্য এবং আত্মা'।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে আম আদমি পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে রাঘব চাড্ডার দূরত্ব বেড়েছে। পাঞ্জাবের অর্থমন্ত্রী হরপাল সিং চিমা এবং আপ'র দিল্লি শাখার প্রেসিডেন্ট সৌরভ ভরদ্বাজের মতো প্রথম সারির নেতারা রাঘবের বিরুদ্ধে সরব হন।
রাঘবের বিরুদ্ধে তাঁদের সকলের অভিযোগের সুর প্রায় একই: তিনি সংসদে পাঞ্জাবের সংবেদনশীল বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বা কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সরব না হয়ে তিনি ‘সফট পিআর’ বা নিজের ভাবমূর্তি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দলের কঠিন সময়ে বা বিরোধী দলের আন্দোলনে তাঁকে যথেষ্ট সক্রিয় দেখা যাচ্ছে না বলেও অনেকের অভিযোগ।
এমনকি দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, আম আদমি পার্টির (আপ) নেত্রী অতিশী-ও দলের সাথে রাঘবের এই ক্রমবর্ধমান দূরত্বের কথা স্বীকার করেছেন।
বিবাদের জেরে সম্প্রতি রাঘব চাড্ডাকে রাজ্যসভায় আপ-এর উপনেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দল এটিকে সাংগঠনিক রদবদল বললেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এটি স্পষ্টতই অন্তর্কলহের ফল।
রাঘব অবশ্য সমস্ত অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ এবং ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, সংসদে তাঁর কাজ হলো জনস্বার্থ নিয়ে কথা বলা, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা নয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে রাঘব বুঝিয়ে দিলেন যে, দলের চাপে তিনি পিছু হঠতে নারাজ।