বাবার হাত ধরে শাসক হয়ে ওঠেন বাশার আল-আসাদ

প্রায় দুই দশক ধরে সিরিয়া শাসন করেছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। ক্ষমতাগ্রহণের পর স্বৈরশাসক হয়ে ওঠেন তিনি। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বাশারের শাসনামলেই সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় দেশটি। তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনা উপেক্ষা করে স্বৈরশাসন বজায় রেখেছিলেন তিনি। রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় সিরিয়ার বেশিরভাগ অংশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাশার আল-আসাদ।

টানা পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে সিরিয়া শাসন করছে আল-আসাদ পরিবার। ১৯৭১ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন হাফিজ আল-আসাদ। ২০০০ সালে তাঁর মৃত্যু হলে, সেই বছরই ১৭ জুলাই মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ক্ষমতায় বসেন ছেলে বাশার আল-আসাদ। এরপর টানা দুই যুগ ধরে প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন তিনি। 

বাশারের জন্ম ১৯৬৫ সালে, দামেস্কে। শৈশবে দামেস্কে পড়াশোনা শুরু। হতে চেয়েছিলেন চিকিৎসক। প্রথমে দামেস্ক ইউনিভার্সিটি থেকে চক্ষুবিজ্ঞানে পড়েছেন। এরপর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চক্ষুবিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করছিলেন। 

বড় ভাই বাসেল আল-আসাদের মৃত্যুর পর, রাজনীতিতে প্রবেশ করেন বাশার। বাবার নির্দেশে দেশে ফেরার পর সিরিয়ায় সামরিক বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিষয়গুলোও রপ্ত করতে থাকেন। এজন্যই বলা হয়ে থাকে বাশারকে একজন শাসক হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন তাঁর বাবা হাফিজ আল-আসাদ। 

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর বাশার আল-আসাদকে একটি আধুনিক এবং সংস্কারবাদী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। তবে খুব দ্রুতই তাঁর শাসন কঠোর হয়ে ওঠে।

২০১১ সালে সিরিয়ায় গণতন্ত্রের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলে, তা দ্রুত গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। সেই প্রতিবাদ দমাতে কঠোর হন বাশার। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠে। তখন রাজপথে রক্ত ঝরার সাথে অশান্তি ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে সিরিয়াজুড়ে। এরপর সিরিয়া সংকটে একে একে জড়িয়ে পড়ে আঞ্চলিক শক্তি থেকে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলো। 

টানা ১৩ বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ নিহত হয়। বাস্তুচ্যুত হয় দেশটির প্রায় অর্ধেক জনগণ। ইতিহাসের সবচেয়ে করুণ মানবিক সংকট শুরু হয় সিরিয়ায়। তবে এসবের পরও বাশার আল-আসাদ ছিলেন নির্বিকার। নিজের কর্তৃত্ব আরও পাকাপোক্ত করাই ছিল তাঁর অগ্রাধিকার। 

বাশার ক্ষমতায় এসে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পরিবর্তন আনেন। নিরাপত্তা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীতে রদবদলের পাশাপাশি, নিজের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সব পদে বসিয়ে প্রশাসনের লাগাম রাখেন নিজ হাতে।