বিশ্লেষকদের মত

হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলম্বিত হলেও ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়

মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলম্বিত হলেও, তা ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। পরমাণু বিশ্লেষকদের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। তেহরানের কাছে অন্তত ১০টি পারমাণবিক বোমার উপকরণ রয়েছে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা। পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাধা দিতে রোববার ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর মাধ্যমে ইসরায়েলের পক্ষে এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ায় ওয়াশিংটন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন হামলার মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিলম্বিত হয়েছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে তেহরানকে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব নয় বলে মত দিয়েছেন তারা। 

অস্ট্রেলিয়ার পরমাণু বিশেষজ্ঞ টনি আরউইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মূলত সেন্ট্রিফিউজ ধ্বংস করেছে, গবেষণা কেন্দ্রসহ অন্যান্য সুবিধা ধ্বংস করেছে। তাই ইরানের পক্ষে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা খুব কঠিন হবে। তবে তেহরানের কাছে এখনও অন্তত ১০টি বোমার উপকরণ থাকতে পারে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা খুব কঠিন হবে।

শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্য বলা হলেও ইরান মূলত পারমাণবিক বোমা তৈরি করতেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

টনি আরউইন আরও বলেন, ইরান বরাবরই বলছে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। কিন্তু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে কেউ ৬০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করে না। আর ফোর্দো পারমাণবিক কেন্দ্রে ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি পেয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)। তার মানে এটা পরিষ্কার, বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই এটা করা হয়েছে।

এদিকে পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি। মার্কিন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং মেরামতের পরিকল্পনা চলছে বলেও জানান তিনি।