ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের অবস্থান ছিল অস্পষ্ট। একদিকে তারা ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে, অন্যদিকে তেল আবিবকে আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। প্রতিবেশীদের এমন পদক্ষেপে ইরান আরও দুর্বল ও কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাধা দিতে ১৩ জুন ইরানে অতর্কিত হামলা চালায় ইসরায়েল। আরব ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অন্তত ২০টি দেশ প্রকাশ্য বিবৃতিতে এই হামলার নিন্দা জানায়।
বিবৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম জর্ডান। নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জর্ডানের আকাশসীমা পার হয়ে ইসরায়েলের দিকে ইরানি রকেট এবং ড্রোন উড়তে বাধা দিয়েছে দেশটির বিমান বাহিনী। নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য এমনটা করা হয়েছে বলে দাবি জর্ডান সরকারের।
বিবৃতিতে সই করা মধ্যপ্রাচ্যের আরেক দেশ সৌদি আরব। অভিযোগ রয়েছে, ইরানি প্রজেক্টাইল গুলি করে ভূপাতিতের জন্য নিজেদের আকাশসীমায় ইসরায়েলি বিমানকে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে সোদি সরকার। তাছাড়া, রিয়াদের বিরুদ্ধে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিতের অভিযোগও রয়েছে।
সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জর্ডান ও সৌদি আরব–উভয়েরই ইসরায়েলের সাথে জটিল সম্পর্ক রয়েছে। তারা জনসমক্ষে ইসরায়েলের সমালোচনা করে এবং আড়ালে সহযোগিতা করে। তাছাড়া, উভয় দেশই প্রতিরক্ষার জন্য ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল।
সৌদি-জর্ডানের মতো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ মিশরের অবস্থানও অস্পষ্ট। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে কায়রো। তবে, হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাইমন ফচ বলছেন, ‘মিশর সরকার এমন কোনো পদক্ষেপই নেয় না, যা ইসরায়েল বা মার্কিন নীতির বিরুদ্ধে যায়। কারণ, এই দেশটিও মার্কিন সামরিক সহযোগিতার ওপর নির্ভর করে।’
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের প্রতিবেশী সব দেশই তাদের অংশীদারদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন। এতে, ইরান আরও দুর্বল ও কোণঠাসা হয়ে পড়ছে বলেও মত তাদের।