গাজায় যুদ্ধবিরতি: নেতানিয়াহুর জন্য গেম চেঞ্জার?

গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে সব জিম্মির মুক্তিকে গেম চেঞ্জার বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এই জিম্মি মুক্তি নিশ্চিত করে ইসরায়েলিদের কাছে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাবমূর্তি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। বিশেষ করে যেসব ইসরায়েলি গত দুই বছরের আগ্রাসনকে অর্থহীন বলে মনে করে আসছেন, তাদের কাছে নেতানিয়াহুর নীতি আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

গাজায় আগ্রাসন শুরুর ১৫ মাস পর, চলতি বছর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ছিল ১৯ জানুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত। এরপর দ্বিতীয় ধাপের চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে বৈঠকেও বসে দুই পক্ষ ও মধ্যস্থতাকারীরা। তবে মতপার্থক্যের কারণে ভেস্তে যায় সেই উদ্যোগ।

অবশেষে ২ বছর ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে চুক্তিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সব জিম্মিকে মুক্তি দিচ্ছে হামাস। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতাকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় একটি গেম চেঞ্জার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই জিম্মি মুক্তি ইসরায়েলিদের কাছে তার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি করবে।

হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিউভেন হাজান বলেন, “এই চুক্তি নেতানিয়াহুর জন্য গেম চেঞ্জার। কারণ ইসরায়েলে নির্বাচন হতে এখনও এক বছর সময় বাকি। এই সময়ে তিনি এই চুক্তিকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগিয়ে আরেক মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হতে চাইবেন।”

যেসব ইসরায়েলি গত দুই বছরের আগ্রাসনকে অর্থহীন মনে করে আসছেন, তাদের কাছেও নেতানিয়াহুর নীতি নতুন করে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত। উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পুনর্লিখনের যে ঘোষণা তিনি দিয়ে আসছেন, সেটিতেও মিলতে পারে সুবিধা।

তবে সমালোচকরা বলছেন, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য গাজা যুদ্ধকে কাজে লাগাচ্ছেন নেতানিয়াহু। চ্যানেল-টুয়েভ টেলিভিশনের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ইসরায়েলি মনে করেন, জিম্মিদের মুক্ত করার চেয়ে ক্ষমতা ধরে রাখার দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন তিনি।

২০১৯ সাল থেকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির তদন্ত চলছে। দোষী সাব্যস্ত হলে অন্তত ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে তার।