ফের আলোচনায় জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস, কারণ কী?

বিশ্বব্যাপী আবারও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কার্যক্রম বৃদ্ধির খবর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি সিরিয়ায় দুই মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় আইএসের পুনরুত্থানের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এর কারণ হিসেবে বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী মনোযোগ হ্রাস পাওয়াকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে শনিবার বন্দুকধারীর হামলায় দুই মার্কিন সেনাসহ অন্তত তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও তিন মার্কিন সেনা। জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধে এই হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গোষ্ঠীটিকে কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

২০২৪ সালের শেষ এবং ২০২৫ সালের শুরুতে আইএসের নতুন করে পুনরুত্থান লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে সিরিয়া এবং আফ্রিকার বিভিন্ন অংশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে কার্যক্রম বাড়াতে থাকে এই গোষ্ঠীটি।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের ফলে শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা শূন্যতা তৈরি হয়, যা আইএসকে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। আগের বছরের তুলনায় ওই বছর দেশটিতে হামলার সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বাড়ে। তবে ২০২৫ সালে সিরিয়ার দুর্বল এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ নিতে নিজেদের কৌশল বদলেছে ইসলামিক স্টেট।

আফ্রিকার সাহেল অঞ্চল অর্থাৎ মালি, বুরকিনা ফাসো ও নাইজার এবং পূর্ব আফ্রিকার সোমালিয়া ও ডিআর কঙ্গোতে দ্রুত কার্যক্রম বাড়াচ্ছে আইএস। কিছু এলাকা থেকে পশ্চিমা সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের ফলে সেসব অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা জোরদার করছে গোষ্ঠীটি। এক্ষেত্রে আইএসএসপি-র মতো সহযোগী গোষ্ঠীগুলোকে দিয়ে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ এবং নতুন যোদ্ধা নিয়োগের কাজ করছে তারা।

এদিকে আফগানিস্তানে সক্রিয় রয়েছে ইসলামিক স্টেটের সহযোগী গোষ্ঠী আইএস-খোরাসান বা আইএসকে (IS-K)। বর্তমানে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক জিহাদি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম আইএসকে—যা এশিয়ার পাশাপাশি ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের জন্যও উল্লেখযোগ্য হুমকি তৈরি করছে।

২০১৯ সালের পর আইএসের পুনরুত্থানের কারণ হিসেবে বিশ্লেষকরা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর চীন ও রাশিয়ার মতো বৃহৎ শক্তির প্রতিযোগিতায় বেশি মনোযোগ দেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী তহবিল হ্রাস পাওয়াকেই প্রধানত দায়ী করছেন।