ইরানে যৌথ হামলা, মেয়েদের স্কুলে প্রাণ গেল ৪০ জনের

ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর বড় ধরণের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। 

এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৮ জন। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি এবং তাসনিম নিউজ এজেন্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের এক পর্যায়ে মিনাব শহরের ওই স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়। নিহতদের একটি বড় অংশই স্কুলছাত্রী বলে জানা গেছে। স্থানীয় গভর্নরের তথ্যমতে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তবে কিছু গণমাধ্যম দাবি করেছে যে, মিনাব শহরে অবস্থিত ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) একটি ঘাঁটি রয়েছে এবং এটিই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে শুরু হওয়া এই আকস্মিক হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পৃথক ভিডিও বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের দাবি, ইরানের বর্তমান ‘শাসনব্যবস্থা’ থেকে সৃষ্ট হুমকি দূর করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে তেহরানে সরকার পরিবর্তনের প্রতি পরোক্ষ সমর্থনেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যৌথ হামলা প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি শাসকদের হুমকি থামিয়ে দেওয়াই যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্য।’

এদিকে, ইরান এই হামলাকে তাদের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। হামলার কড়া জবাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইতোমধ্যেই তেহরান পাল্টা হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে।

উল্লেখ্য, এই সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে তৈরি হলো যখন ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল। গত বৃহস্পতিবারই আলোচনার সর্বশেষ দফার বৈঠক শেষ হয়। হঠাৎ এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে অন্য এক খবরে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর ইরানের পাল্টা হামলায় এশীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।