ইরানের সাথে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ, ঝুঁকি দুটোই বাড়ছে

ইরানের সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে যত দিন যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ও ঝুঁকি, দুইটো বাড়ছে। যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস, রক্ষণাবেক্ষণে ইতোমধ্যেই খরচ ছাড়িয়েছে কয়েক'শ কোটি ডলার। সবমিলিয়ে খরচ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অর্থের চেয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে অস্ত্রের মজুদ। যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মার্কিনিদের অস্ত্রের মজুদ কয়েক সপ্তাহ ধরে রাখা সম্ভব নয় বলেই ধারণা করছেন তাঁরা।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের 'এপিক ফিউরি' অভিযান সময়ের সাথে সাথে বেশ ব্যয়বহুল ও কৌশলগতভাবে জটিল হয়ে উঠছে।

আনাদোলু নিউজ এজেন্সির মতে, অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই খরচ হয়েছে প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতিতে খরচ আরও ৬৩ কোটি ডলার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধ সরঞ্জাম হারানোর অতিরিক্ত খরচ।

কুয়েতে ফ্রেন্ডলি ফায়ারে ৩টি এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। 

সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্যমতে, ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনা করতেই প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৬ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়। অর্থ্যাৎ, প্রতিদিনই কয়েক কোটি ডলার খরচের খাতায় যোগ হচ্ছে এই অভিযান।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থের চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে অস্ত্রের রসদ ধরে রাখা। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট মিসাইল বা এসএম-সিক্সের মতো ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। 

সামরিক বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, বর্তমান হারে ইন্টারসেপশন দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় আমেরিকার পক্ষে। এসএম-সিক্স অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির হওয়ায় খুব সহজে ও কম সময়ে তৈরি করাও সম্ভব নয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বি-ওয়ান ও বি-টু স্টেলথ বোমারু বিমান, এফ-থার্টি ফাইভ, এফ-টুয়েন্টি টু র‍্যাপ্টর, এফ-ফিফটিন, এফ-সিক্সটিন এবং এ-টেন অ্যাটাকার বিমান। এছাড়া প্রথমবারের মতো মোতায়েন করা হয়েছে লুকাস নামের স্বল্পমূল্যের ড্রোনও।

পাশাপাশি সক্রিয় রয়েছে এমকিউ-নাইন রিপার ড্রোন, হাইমার্স রকেট সিস্টেম ও টমাহক ক্রুজ মিসাইল। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে কাজ করছে প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।