এক মাসে গড়াল ইরান যুদ্ধ

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের আজ এক মাস পূর্ণ হলো। চলমান এই সামরিক সংঘাতে কেবল ইরানই আক্রান্ত হয়নি, উত্তাপ ছড়িয়েছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে। এ পর্যন্ত ১৩ মার্কিন সেনাসহ নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৩ হাজার। হামলা ও পাল্টা হামলা এবং চোখ রাঙানিতে উত্তপ্ত আজকের বিশ্ব রাজনীতি। শক্তি প্রদর্শন আর নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বলি হচ্ছে সংঘাত চলমান এলাকাগুলোর সাধারণ জনগণ।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করার অজুহাতে ইসরায়েলের ইশারায় ইরান সংঘাতে জড়ায় যুক্তরাষ্ট্র। অথচ এই সংঘাত শুরুর দুদিন আগ পর্যন্ত পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে চলছিল যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা। চুক্তি সম্পাদনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত তীরে এসে তরী ডুবে যায়। এক মাসে তীব্র হয়েছে এই ত্রিমুখী সংঘাত।

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রথম থাবা পড়ে ইরানের এক স্কুলে। যে হামলায় ঝরে যায় শিশুসহ দেড় শতাধিক বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ। এক মাসে এই সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১ হাজার ৯০০। অসংখ্য পরিবার হারিয়েছে তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই।

এছাড়া ইরান হারিয়েছে প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানিসহ দেশটির শীর্ষস্থানীয় আরও বেশ কয়েক জন নেতা নাম লিখিয়েছেন এই মৃত্যুর মিছিলে, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড- আইআরজিসি'র বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

এক মাসের এই রক্তক্ষয়ী এই যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমানাতেই আটকে নেই। বরং ইতোমধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে। ইরানজুড়ে হামলার পাশাপাশি ইসরায়েলী সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো, যাদের মধ্যে রয়েছে লেবাননে হিজবুল্লাহ এবং ইরাকে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী। 

অন্যদিকে, ইরানের ওপর ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার প্রতিবাদে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে হিজবুল্লাহ ও ইরাকের শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীও। পাশাপাশি সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য লড়াই প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এছাড়া ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের উত্তাপ ভালোই টের পাচ্ছে ইসরায়েলও। 

বিশেষ করে স্বল্প খরচে তৈরি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যে ইসরায়েলের আয়রন ডোম ও মার্কিন থাড প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অনেকাংশেই অকার্যকর প্রমাণ করতে পেরেছে- যুদ্ধের এক মাসে তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

এদিকে, সংঘাতের কারণে প্রকট হচ্ছে মানবিক পরিস্থিতিও। স্বাস্থ্যকর্মী ও উদ্ধারকর্মীরা প্রতিদিন ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে উদ্ধার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আহত ও বিপর্যস্ত পরিবারদের জন্য ত্রাণ ও চিকিৎসা সরবরাহের কাজ প্রতিনিয়ত আরও বেশি জটিল হয়ে পড়েছে।

গাজা থেকে ইরান- মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগ্রাসন কেড়ে নিয়েছে হাজারো প্রাণ। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৩ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে এমন ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে শিশু, নারী ও বয়স্কদের ওপর এর প্রভাব নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ জানিয়েছেন।