২০১১ সালে লিবিয়ায় ন্যাটোর সামরিক হস্তক্ষেপের ঘটনা আজও বিশ্ব রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হয়। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার অজুহাতে শুরু হওয়া সেই অভিযান শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের পতন এবং দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকরা বলছেন লিবিয়ার মত ইরানকে ঘিরেও তৈরি হচ্ছে একই রকম ঝুঁকি।
বেসামরিক মানুষকে রক্ষার যুক্তিতে ২০১১ সালে ন্যাটোর সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু হয়েছিল লিবিয়ায়। কিন্তু ৮ মাসব্যাপি সেই অভি্যানে দেশটির রাষ্ট্র কাঠামো ভেঙে পড়ে, শুরু হয় দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতা। যা আজও অব্যাহত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, লিবিয়ার মতো ইরানের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে একটি রাষ্ট্রকে প্রথমে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়। এরপর সেই দেশের নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার প্রশ্নে হুমকি হিসেবে দাঁড় করিয়ে সামরিক পদক্ষেপকে নৈতিকভাবে বৈধতা দেওয়া হয়।
১৫ বছর আগে মুয়াম্মার আল-গাদ্দাফিকে হত্যার মধ্য দিয়ে ৪২ বছরের এক দীর্ঘ শাসনের পতন ঘটানো হয়। তারপর একে একে সামরিক অভি্যানের নাম দিয়ে লিবিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কাঠামোতেও ভেঙে দেওয়া হয়।
সেই সময় লিবিয়ার যুদ্ধ শুধু লিবিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংঘাতের উত্তাপ পুরো উত্তর আফ্রিকা ও সাহেল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। একই ভাবে ইরান যুদ্ধের কারনে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে।
বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্ক করে বলছেন, লিবিয়ার অভিজ্ঞতা বলে গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এমন সামরিক হস্তক্ষেপে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বদলে দেখা যায় রাষ্ট্রের ভাঙন ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত। যা ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির ঝুঁকি তৈরি করছে।