ইরানের ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি বুধবার (২২ এপ্রিল) শেষ হচ্ছে। কিন্তু এখনও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি তেহরান ও ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানে সোমবার পাকিস্তানে দু'পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। অথচ এখন পর্যন্ত দুই দেশের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদ পৌঁছেছেন এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়। এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, চুক্তি না হলে ইরানে ফের সামরিক অভিযান ও বোমা হামলা শুরু করা হবে।
মঙ্গলবার স্থায়ীন সময় সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি'র জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘স্কোয়াক বক্স’-এ দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে নিজের কঠোর অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, আলোচনার মাধ্যমে কোনো সমাধানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা তিনি করছেন কি না। জবাবে ট্রাম্প কোনো রাখঢাক না রেখেই বলেন, 'আমি মনে করি বোমা হামলা শুরু হতে যাচ্ছে, কারণ আমার মতে এটিই আলোচনায় যাওয়ার জন্য উপযুক্ত দৃষ্টিভঙ্গি। তবে আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত আছি।'
এসময় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সক্ষমতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'আমাদের সেনাবাহিনী লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত এবং তারা সত্যিই অবিশ্বাস্য। গত কয়েক বছরে আমরা সামরিক বাহিনীকে যেভাবে পুনর্গঠন করেছি, তা এখন দৃশ্যমান।'
আগামী ২২ এপ্রিল (বুধবার) মধ্যরাতে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। ট্রাম্প পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সময়সীমা আর বাড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তাঁর মতে, গত ৪৭ বছর ধরে ইরানের সাথে যে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো ঝুলে আছে, তার একটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনই প্রয়োজন। তিনি ইরানের বর্তমান প্রশাসনকে 'রক্তপিপাসু' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, 'আমরা এখন অনেক শক্তিশালী অবস্থানে থেকে আলোচনা করছি।'
এদিকে, উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সোমবার না হলেও, আজ মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি দল পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
তবে ইরানের দিক থেকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনও কিছুই জানানো হয়নি। এদিকে, এই বৈঠককেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এড়ানোর শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের দিক থেকে আলোচনা থেকে সরে আসার পেছনে হরমুজ প্রণালিতে বিদ্যমান মার্কিন নৌ অবরোধের কথা বলা হয়েছে। তবে ট্রাম্প তাঁর প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধকে 'বিরাট সাফল্য' হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, এই অবরোধের ফলে তেহরান ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়ছে।