ইরানের কাছে অপমানিত হচ্ছে আমেরিকা: জার্মান চ্যান্সেলর

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেরৎস বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ‘অপমানিত’ হচ্ছে। স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর এখন সেখান থেকে বেরিয়ে আসা যে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন, সেটির সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেন মেরৎস।

আজ সোমবার মধ্য জার্মানির মার্সবার্গে একটি স্কুল পরিদর্শনের সময় মেরৎস বলেন, ‘ইরানিরা আলোচনায় খুবই দক্ষ — বা এভাবে বলা যায়, তারা আলোচনা না করার ক্ষেত্রেই বেশি পারদর্শী। ওরা আমেরিকানদের ইসলামাবাদ পর্যন্ত ঘুরিয়ে নিয়ে গেল, কিন্তু সেখান থেকে কোনো ফল ছাড়াই ফেরত পাঠাল।’

এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলের অভাবের সমালোচনা করেন মেরৎস। ইরাক ও আফগানিস্তানের উদাহরণ টেনে বলেন, যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার সুস্পষ্ট কৌশল ছাড়া যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি কী হতে পারে, সেটি টের পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

মেরৎস বলেন, ‘পুরো বিষয়টিকে একেবারে ছাড় দিয়ে বললেও এভাবে বলতে হয় – হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছু একটা করে বসা। এই মুহূর্তে আমেরিকানরা কী ধরনের কৌশলগত প্রস্থান বেছে নিচ্ছে, সেটার কোনো ছাপ আমি দেখতে পাচ্ছি না।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতি এড়াতে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া জরুরি — এটাই বার্লিনের প্রত্যাশা।

জার্মানি বর্তমানে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নেতৃত্বে একটি জোটের অংশ হিসেবে কাজ করছে, যে জোট ইরান যুদ্ধে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং এরপর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

মেরৎসকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স লিখেছে, ‘প্রণালিটির বেশ কিছু অংশে অন্তত মাইন পেতে রাখা হয়েছে — এটা তো স্পষ্ট। সেখানে (মাইন তুলে ফেলে) পথ পরিষ্কার করতে জার্মানি থেকে মাইন অপসারণকারী জাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব আমরা দিয়েছি। আমরা এই জায়গাটাতে সহায়তা করতে পারি। কিন্তু তার আগে যুদ্ধ তো থামতে হবে! আর এই মুহূর্তে নিকট ভবিষ্যতে তা কীভাবে সম্ভব হবে, আমি তা দেখতে পাচ্ছি না।’

কেন তাঁর এমন মনে হচ্ছে, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন মেরৎস, ‘...কারণ, ইরান দেখিয়ে দিয়েছে তারা অনুমানের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী, অন্যদিকে আমেরিকার দিক থেকে ভরসা করার মতো কোনো আলোচনার কৌশল চোখে পড়ছে না।’