ইউক্রেনে প্রথমবার বেসামরিক উদ্ধারে রোবোটিক যান

যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সেনাদের উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার নতুন নয়। তবে প্রথমবার বেসামরিক নাগরিক উদ্ধারে প্রযুক্তির ব্যবহার করল ইউক্রেন। দেশটির সেনারা জানান, আন্তোনিনা নামের একজনকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত হয়েছে চালকবিহীন রোবোটিক যান। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইউক্রেনের দোনেৎস্কের স্টাভকি গ্রামের বাসিন্দা আন্তোনিনা। রুশ হামলার মুখে জানুয়ারি থেকে পরিবারের সাথেই বেসমেন্টে আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি। ফ্রন্টলাইন থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় এলাকাটি প্রায়ই গোলাবর্ষণের শিকার হয়। 

৭৭ বছর বয়সী আন্তোনিনা জানান, লাঠিতে ভর করে হাঁটার কারণে পরিবারের অন্যদের সাথে তাল মেলাতে পারেননি তিনি। তাই তাকে উদ্ধারে পাঠানো হয় চালকবিহীন রোবোটিক যান। 

দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা আন্তোনিনা বলেন, ‘প্রথমে ভেবেছিলাম ফিরে যাই। তারপর নিজেকে বুঝিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। এরপর দেখতে পেলাম, কিছু একটা আমার দিকে এগিয়ে আসছে। কিন্তু সেটা কী বুঝতে পারছিলাম না।’

আন্তোনিনার ছেলের স্ত্রী জানান, ধীরগতির কারণে আন্তোনিনাকে মাঝপথে রেখে চলে যেতে বাধ্য হন তারা। 

আন্তোনিনার ছেলের স্ত্রী লারিসা ওডনোদভোরেটস বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম তিনি হয়তো ফিরে গেছেন। আমাদের কাছে আসবেন তা কখনোই, ভাবতে পারিনি। পরে যখন শুনলাম তিনি আসছেন, আমরা ভীষণ খুশি হই।’

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া ইউক্রেনীয় সেনা জানান, এ ধরনের রোবোটিক যান সাধারণত আহত সেনাদের উদ্ধারে ব্যবহৃত হয়। তবে বেসামরিক নাগরিক উদ্ধারের ঘটনা এটিই প্রথম। 

এক ইউক্রেনীয় সেনা কর্মকর্তা বলেন, ‘ওই বৃদ্ধাকে কিছুক্ষণ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাহায্যের অনুরোধ জানালে শুরু হয় বিশেষ অভিযান। এটা ভালো উদাহরণ, কিন্তু ঝুঁকিও ছিল। শত্রুপক্ষ প্রায়ই এসব রোবোটিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালায়।’

যুদ্ধের মাঝেও মানবিকতা ও প্রযুক্তির এই বিরল সমন্বয় নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। আন্তোনিনার আশা, দ্রুতই বন্ধ হবে সংঘাত, ফিরবে শান্তি।