মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা কমলেও গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও, গাজায় নতুন করে সংঘাত বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে টানা ৪০ দিনের পাল্টাপাল্টি হামলার পর ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতিতে আছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত। একই সময়ে মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবাননের মধ্যেও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
তবে এই শান্তি গাজাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অন্যান্য ফ্রন্টে উত্তেজনা কমে যাওয়ায় ইসরায়েল এখন গাজার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারে। এতে করে গাজায় সামরিক চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গাজার ভবিষ্যৎ এখন অনেকটাই নির্ভর করছে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও ভবিষ্যৎ শাসন কাঠামোর ওপর। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চায়, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে হামাস অস্ত্র ছাড়বে ও নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। অন্যদিকে, হামাস বলছে, সম্পূর্ণ ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও গাজার পুনর্গঠন ছাড়া নিরস্ত্রীকরণ সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থানগত পার্থক্যের কারণে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। মানবিক সহায়তা বা সীমিত আকারে সমঝোতা এগোলেও মূল সমস্যাগুলো অমীমাংসিত থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতির মাঝেও গাজায় হামলা বন্ধ হয়নি। গত ৬ মাসে ইসরায়েলি হামলায় সেখানে সাড়ে ৭শ’র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত ও ২২শ’র বেশি আহত হয়েছে। হামাসের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তা প্রবেশেও বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে চাইতে পারে ও সীমিত উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করবে। তবে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও আঞ্চলিক বাস্তবতা যেকোনো সময় পরিস্থিতিকে নতুন মোড় দিতে পারে।
ফলে গাজার পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। যুদ্ধবিরতির আড়ালে চলমান রাজনৈতিক টানাপড়েনই নির্ধারণ করবে এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি আবারও শুরু হবে নতুন সংঘাত।