আলোচনা বা লড়াই, দুটোর জন্যই প্রস্তুত ইরান: আব্বাস আরাগচি

প্রয়োজনে আলোচনা বা লড়াই, উভয়ের জন্যই ইরান প্রস্তুত। গতকাল বুধবার এক স্মরণসভায় এ মন্তব্য করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, সামরিক কমান্ডারদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের সাথে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সেই সাথে ইরান চুক্তিতে রাজি না হলে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। 

ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ শেষ করার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করার চেয়েও এর উদ্দেশ্য অর্জন করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ এসময় তিনি দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনীসহ প্রায় সব সামরিক সক্ষমতাই ধ্বংস হয়ে গেছে। 

এই প্রেক্ষাপটেই এল আব্বাস আরাগচির এমন মন্তব্য। ইরানের অভিযোগ, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পাঁয়তারা করছে।

আরাগচি বলেন, ‘রাষ্ট্রের স্বার্থে প্রয়োজন দেখা দিলে কূটনীতি, আলোচনা ও সমঝোতার ক্ষেত্রেও প্রস্তুত থাকবে সরকার। তবে সেই প্রস্তুতি হবে দেশের প্রতিরক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রস্তুতির মতোই দৃঢ় ও শক্তিশালী।’

এদিকে, মিডল ইস্ট আই’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হজের সময় ফের যুদ্ধ শুরু না করতে উপসাগরীয় মিত্রদের সতর্কবার্তার পর ইরানে হামলা স্থগিত করেন ট্রাম্প।

বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে সম্প্রতি ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে এবং ইরানকে সমঝোতার জন্য আরেকটি সুযোগ দেয়া হচ্ছে। তবে এই নিয়ে আমার বিশেষ তাড়া নেই। আমি শুধু চাই সংঘাতে প্রাণহানি যতটা সম্ভব কম হোক। তবে আমার মনে হয় না ইরান তাদের জনগনের জন্যে সেটা চায়।’ 

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি চলছে। এসময়ে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা এগিয়েছে। সার্বিকভাবে আলোচনার প্রক্রিয়াটি চলমান আছে। তবে এখনও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়াসহ নানাবিধ ইস্যুতে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীল কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি দেশ দুটি।