গাজার ৭০ ভাগ অংশের দখল নেওয়ার নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে স্থায়ীভাবে ভিটেছাড়া হওয়ার শঙ্কা তাঁদের। এমনকি ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’-এর পরিকল্পনা নিয়েও সন্দিহান ফিলিস্তিনিরা। তাঁরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনের নাম করে মূলত তাঁদের স্থায়ী বাস্তুচ্যুতির তকমা দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
চারপাশে কেবলই ধ্বংসস্তূপ, এরপরও নিজের ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে আছেন চার সন্তানের জনক দিয়া আল এরমানি। ভেঙে পড়া ভবনের মাঝেই কোনোমতে দিন কাটছে তাঁর। প্রতিদিন চেষ্টা করছেন বিধ্বস্ত হওয়া ভবনটিকেই বসবাসের উপযুক্ত করতে। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনায় গুঁড়িয়ে যেতে বসেছে সেই স্বপ্নটুকু।
দিয়া আল এরমানি নামের এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘নেতানিয়াহু বলছেন যে ইসরায়েল প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করতে চায়। যদি আজ আপনি ৭০ শতাংশ এলাকা দখল করতে চান, তাহলে আরও ১০ শতাংশ নেওয়ার জন্য গাজা আর কতটা বড়? আমরা কোথায় যাব? আমাদের সাথে যা ঘটছে তা আর সহ্য করা যায় না।’
দিয়া আল এরমানির শঙ্কা, গাজার ৭০ ভাগ এলাকা ইসরায়েলের দখলে গেলে বাকি জীবন অস্থায়ী তাবুতেই পার করতে হবে তাঁকে। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।
এরমানি বলেন, ‘ইসরায়েলের আগ্রাসন শুরুর পর বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছি আমরা। যখন আমি তাঁবু থেকে নিজের বাড়িতে ফিরেছিলাম, সত্যি বলতে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আজ আরও একবার তাঁবুতে ফিরতে হবে। আর ইসরায়েলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আর কখনোই নিজ বাড়িতে ফিরতে পারব না।’
ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ লাঘব ও গাজা পুনর্গঠনে চলতি বছরের শুরুতেই ‘বোর্ড অব পিস’ গঠন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপরও গাজায় ইসরায়েলের নিয়মিত হামলা এবং নেতানিয়াহুর অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় ট্রাম্পের বোর্ড অব পিসে আস্থা রাখতে পারছে না গাজাবাসী।
গাজার আরেক বাসিন্দা বলেন, ‘তারা যে শান্তি বোর্ডের কথা বলেছিল, তা কোথায়? যারা বলেছিল, তারা আসবে, রুখে দাঁড়াবে এবং তা করে দেখাবে, কিন্তু তারা কোথায়? এই সব কথার কোনো সত্যতা নেই। এখানে যুদ্ধবিরতির কোনো অস্তিত্ব নেই। প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।’
গাজার শতভাগ অঞ্চল কেবল ফিলিস্তিনিদের হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক। এলাকা দখল নিয়ে নেতানিয়াহুর পরিকল্পনায় গভীর উদ্বেগ জানান তিনি।
২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত গাজার প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা কার্যকরভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইসরায়েলের গাজা বাফার জোন সম্প্রসারণকে স্থায়ীভাবে বাস্তুচ্যুত করার একটি কৌশলের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন ফিলিস্তিনিরা।