ইরানের মিনাব ট্রাজেডির জন্য দায়ী মার্কিন তথ্যবিভ্রাট: ব্লুমবার্গ

ইরানের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ বিমান হামলায় ১২০ জন শিক্ষার্থী ও ২৬ জন শিক্ষক নিহতের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের গুরুতর ত্রুটির কারণেই প্রাণ হারিয়েছে এই নিষ্পাপ শিশুরা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে তদন্ত সংশ্লিষ্ট আরও তথ্য তুলে ধরেছে সংবাদমাধ্যমটি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযানের প্রথম দিনে ধংসস্তুপে পরিণত হয় ইরানের উপকূলীয় শহর মিনাবের মেয়ে শিশুদের একটি স্কুল। মুহূর্তেই প্রাণ হারায় ১২০টি নিষ্পাপ প্রাণ। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও এখনো নিশ্চিত হয়নি জবাবদিহিতা। বিশ্ব পরাশক্তির ভুলেই কী তাহলে চাপা পড়ে যাচ্ছে তদন্তের অগ্রগতির খবর? এমন প্রশ্ন তুলেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড– সেন্টকমের প্রধান ব্র্যাড কুপারের নির্দেশে তদন্ত শেষ হলেও আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি প্রতিরক্ষা দপ্তর– পেন্টাগন। কেননা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এ হামলার জটিলতার কারণে স্পষ্ট কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব নয়। এমনকি এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ছিল কিনা, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে তাঁর।

এদিকে গোপন সূত্রের বরাতে ব্লুমবার্গ উল্লেখ করেছে, পেন্টাগনের তথ্যবিভ্রাট আর সমন্বয়হীনতাই এই মর্মান্তিক ঘটনার জন্য দায়ী। তদন্তে জানা গেছে, ২০১৯ সালে এক মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষক পেন্টাগনের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকা বিশ্লেষণ করে জানান, মিনাবে আইআরজিসির নৌঘাঁটি হিসেবে চিহ্নিত স্থানটি আসলে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, তার ব্যবহৃত ডিভাইসটি মূল ডেটাবেজের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকায় সেই তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে যায়।

এছাড়াও তদন্ত কর্মকর্তারা ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার আগেও বিশ্লেষকদের মন্তব্য ও ছবি যুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডেটাবেজ অভিযান পরিচালনার মূল ডেটাবেজের সাথে সংযুক্ত ছিল না। তাই শেষ মুহূর্তেও কমান্ড সেন্টারে সঠিক তথ্য পৌঁছায়নি।

অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থা এয়ারওয়ার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অন্তত ৩০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যদিও এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্র নাকি ইসরায়েলের হাত রয়েছে, তা নিশ্চিত করেনি সংস্থাটি।

শেষ পর্যন্ত জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে ইরানের মিনাবের এই ট্রাজেডি যুদ্ধকালীন গোয়েন্দা ত্রুটির ভয়াবহ নজির হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়।