আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনী দেশটির অন্তত তিনটি শহর এবং সেগুলোর ভেতরে একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। আজ বুধবার আল জাজিরা এ খবর দিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে যেসব স্থানে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হামলা করেছে এর মধ্যে কেশম দ্বীপ ছিল অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু, যেখানে অন্তত সাতটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত সিরিক শহরেও হামলা চালানো হয়, যেখানে ছয়টি স্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্দর আব্বাসে টেলিযোগাযোগ টাওয়ারসহ ১০টি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে।
গত এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে ইরানের সামরিক স্থাপনার ওপর এটিই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলা।
ইরানের প্রধান আলোচক এবং সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই হামলাগুলোকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
গালিবাফ বলেন, এই লঙ্ঘনের মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত ইরানের ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ, আরও মার্কিন হামলার অব্যাহত হুমকি, ইরানের তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং লেবাননে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে সমঝোতা স্মারকের ক্রমাগত লঙ্ঘন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, ধমক ও জবরদস্তির যুগ শেষ হয়ে গেছে। গালিবাফ যোগ করেন, এই ধরনের চাপ কোনো কাজে আসে না।
এদিকে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) ইরানের সামরিক জবাব ঘোষণা করে জানায়, তারা বাহরাইনের সালমান বন্দরে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটিসহ এই অঞ্চলজুড়ে ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ ইরানের আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করেছে।