পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যেই খামেনির দাফন, প্রতিশোধের স্লোগান 

জন্মস্থান মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ৭ দিনের শোকযাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয় তাকে। বাবা খামেনির শেষ জানাজা পড়ান তিন ছেলে মোস্তফা, মেয়সাম এবং মাসুদ খামেনি। আলী খামেনির শেষ যাত্রায় ছিলেন না আরেক ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোতজবা খামেনি।

ইরাকের কারবালা এবং ইরানের মাশহাদে বিপুল জনসমাগমের কারণে বিলম্বিত হয় আলী খামেনির দাফন। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটায় দাফনের সময় নির্ধারণ করা হলেও তা পেছানো হয়। দিন গড়ায় সন্ধ্যা থেকে রাতে। 

মাশহাদের ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় জনসমুদ্রে। চোখের জল এবং প্রিয় নেতা হত্যার প্রতিশোধের স্লোগান দিয়ে আলী খামেনিকে শেষ বিদায় জানান ইরানের সর্বস্তরের মানুষ। যতক্ষণ না তাদের নেতা হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ হৃদয়ের যন্ত্রণা কমবে না বলে জানান তারা। শত্রুদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই শোক তাদের সাথে থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন অনেক ইরানি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় পরিবারের ৪ সদস্যসহ খামেনি নিহত হন। এর পরপরই তার দাফন হওয়ার কথা থাকলেও যুদ্ধের কারণে পেছানো হয় তারিখ। 

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর, খামেনিকে দাফনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় ইরান সরকার। বৃহস্পতিবার আলী খামেনির পাশাপাশি সমাহিত করা হয়েছে তার পরিবারের চার সদস্যেকেও। 

এর আগে গত শুক্রবার থেকে আলী খামেনির জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ৭ দিনের কর্মসূচি পালন করে ইরান সরকার। শুক্র, শনি ও রোববার খামেনির কফিন রাখা হয় তেহরানের প্রধান মসজিদ গ্র্যান্ড মোসাল্লায়। 

সোমবার মরদেহ নেওয়া হয় ইরানের কোম শহরে। সেখান থেকে উড়োজাহাজে করে মরদেহ পৌঁছায় প্রতিবেশী দেশ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায়। সেখানে আলী খামেনিকে শেষ বারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে পবিত্র শহর কারবালা। পুরো শোকানুষ্ঠানে নিরাপত্তার কারণে বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি কোনো অনুষ্ঠানেই উপস্থিত ছিলেন না।