ফিলিস্তিনি বন্দিদের পালানো ঠেকাতে কুমির দিয়ে ঘেরা বিশেষ কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে নীল নদের কুমিরকে দেওয়া বিশেষ সংরক্ষিত প্রাণীর আইনি সুরক্ষা প্রত্যাহার করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার ইসরায়েলের পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলম্যান একটি ডিক্রিতে সই করেন। এর মাধ্যমে নীল নদের কুমিরকে ‘বিশেষ ব্যবস্থাপনার বন্যপ্রাণী’ হিসেবে নতুন আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই শ্রেণির আওতায় নিরাপত্তার স্বার্থে বা বিশেষ প্রয়োজনে রাষ্ট্র চাইলে এসব প্রাণী নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারবে।
মন্ত্রী সিলম্যান জানান, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে ইসরায়েলের নিরাপত্তা বাহিনী এখন থেকে কুমির রাখতে পারবে। তবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে।
মূলত ইসরায়েলের কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের কয়েক মাসের চাপের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য চারপাশে কুমির দিয়ে ঘেরা একটি বিশেষ কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বিতর্কিত অভিবাসন আটককেন্দ্র ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ প্রস্তাব দেন।
ইসরায়েল প্রকৃতি ও উদ্যান কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, কুমির কেবল শিক্ষা ও গবেষণার উদ্দেশ্যে খাঁচায় রাখা উচিত। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আইনি উপদেষ্টা নেটা ডোরিও এ পরিকল্পনার বিরোধিতা করে বলেছিলেন, এর পর্যাপ্ত আইনি ও পেশাগত ভিত্তি নেই।
বেন গভির অবশ্য দাবি করেন, আক্রমণাত্মক কুকুর ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা থাকায় ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষ কুমির সামলাতে সক্ষম। তবে ডোরিও এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কুমিরের মতো বিপজ্জনক বন্যপ্রাণী পালনের কোনো অভিজ্ঞতা কারা কর্তৃপক্ষের নেই।
এদিকে সিদ্ধান্তের পর বেন গভির ফেসবুকে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। ছবিতে দেখা যায়, তিনি শিকল দিয়ে একটি কুমির বেঁধে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘কুখ্যাত সন্ত্রাসী, পালানোর কথা ভাবছ? আরেকবার ভাবো।’
পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো বলছে, পাহারাদারি ও ভয় দেখানোর জন্য বন্যপ্রাণী ব্যবহার করা উচিত নয়। কারাগারে কুমির রাখা কুমির ও মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করবে। নিরাপত্তার জন্য প্রচলিত ব্যবস্থা ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।