ইরানের আকাশে আমেরিকার সর্বনাশ?

দুই শতাধিক মার্কিন ড্রোন! ইরানের আকাশে আমেরিকার আকাশশক্তি আগুনে ভস্ম। তেহরানের দাবি—দুই শয়ের বেশি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে তারা। যুদ্ধের আকাশে এ যেন ভয়ংকর পাল্টা বার্তা তেহরানের। মার্কিন সামরিক শক্তি ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার সামনে যেন একেবারেই কুপোকাত।

মঙ্গলবার আইআরজিসির উপপ্রধান মেজর জেনারেল মোস্তফা ইজাদি এক স্মরণসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সামনে আনেন এই বিস্ফোরক হিসাব। দুই শয়ের বেশি! অর্থাৎ মার্কিন-ইসরায়েলি আকাশ অভিযানের ওপর বড় আঘাত হেনেছে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ইজাদির দাবি আরও চমকপ্রদ।

এত বিপুল বিমান ও ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে তৈরি হয়েছে তীব্র জনবিক্ষোভ। বাড়ছে জবাবদিহির চাপ। আর ইসরায়েলের ভেতরেও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা।

ইরানি জেনারেলের বক্তব্য আরও কঠোর। তাঁর দাবি—মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের লক্ষ্য শুধু হামলা চালানো ছিল না। লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছিল সুপরিকল্পিত নীল নকশা। কিন্তু তেহরানের দাবি—যুদ্ধের প্রতিটি ফ্রন্টেই সেই পরিকল্পনা পুরোপুরি ব্যর্থ। আর এর পেছনে সাধারণ মানুষের ভূমিকাকেও সামনে এনেছেন তিনি।

ইজাদির ভাষ্য—‘ইরানি জনগণের সচেতন ও সক্রিয় উপস্থিতি শত্রুর ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিয়েছে। ফলে আরও শক্তিশালী হয়েছে ইরানের জাতীয় সংহতি। শক্ত হয়েছে সার্বভৌমত্বের অবস্থান।’

এমনকি ইজাদি দাবি করেছেন—যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৮০ শতাংশ তরুণই ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিরোধিতা করছে।

কিন্তু এই যুদ্ধের পেছনের ঘটনাপ্রবাহ আরও বিস্ফোরক। ইরানি বর্ণনা, ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় দফার আক্রমণ। লক্ষ্য ছিল ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কর্মকর্তা। জবাবে পাল্টা আঘাতে যায় ইরান।

তেহরানের দাবি—টানা ৪০ দিনে প্রায় ১০০টি পাল্টা অভিযান চালানো হয়। আঘাত করা হয় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনায়। এরপর যুদ্ধক্ষেত্রে আসে কূটনীতির পালা।

১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের কথা জানানো হয়। সেখানে ছিল বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়। কিন্তু এখানেই আবার বিস্ফোরণ।

ইরানি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ—ওয়াশিংটন সমঝোতার প্রতিটি ধারা লঙ্ঘন করেছে। আর সেই কারণেই আবারও কঠোর জবাব দিতে হয়েছে তেহরানকে।

এখন যুদ্ধের আকাশে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—দুই শয়ের বেশি মার্কিন ড্রোন ও যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের এই দাবি কতটা সত্য? সংখ্যাটি যদি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির কাছাকাছি হয়—তাহলে এটি শুধু ইরানের প্রতিরক্ষার সাফল্য নয়; মার্কিন আকাশ অভিযানের জন্যও ভয়াবহ ধাক্কা। কারণ আকাশযান হারানো মানে শুধু সামরিক সরঞ্জাম হারানো নয়; হারানো মানে—আকাশ অভিযানের পরিকল্পনায় পরিবর্তন, বাড়তি ঝুঁকি, বাড়তি খরচ।

একদিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক জোট, অন্যদিকে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা। আর তেহরানের দাবি—এই লড়াইয়ে দুই শয়ের বেশি আকাশযান ইতিমধ্যেই মাটিতে নামিয়ে দিয়েছে তারা। তাহলে কি বদলে যাচ্ছে যুদ্ধের আকাশ? ইরানের আকাশে কি এবার মার্কিন শক্তির আগুন নিভতে শুরু করেছে? নাকি এটি শুধু তেহরানের যুদ্ধকালীন দাবি?

শেষ পর্যন্ত যদি দুই শয়ের বেশি আকাশযান ভূপাতিতের দাবি সত্য প্রমাণিত হয়—তাহলে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা শুধু হামলা ঠেকায়নি, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির বিরুদ্ধেই দিয়েছে ভয়ংকর এক পাল্টা বার্তা। আর সেই বার্তার অর্থ একটাই—ইরানের আকাশে ঢুকবে আমেরিকা, কিন্তু অক্ষত অবস্থায় ফিরবে কি?