ইরান শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ছাড়বে না: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান

পারমাণবিক প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের অধিকার ত্যাগ করবে না ইরান। বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। বিবিসি বাংলার লাইভ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

পেজেশকিয়ান স্পষ্টতই জানিয়েছেন যে, তাঁর দেশ ইরান 'পারমাণবিক বিজ্ঞান' এবং 'শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি' ত্যাগ করবে না। তিনি বলেন, 'পারমাণবিক জ্ঞানে কেবল কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার আছে - এটা ইরান মানে না।' পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন যে, ইরান তার নিজস্ব জলসীমায় নৌপরিবহন তাদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে দেবে না।

বক্তব্যে ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গও টেনে আনেন পেজেশকিয়ান। মিনাব স্কুলে ও স্টেডিয়ামে নিরস্ত্র মানুষের ওপর মার্কিন বাহিনীর বোমা হামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাঁর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নিজেদের কেবল 'রক্ষা' করেছিল। আত্মরক্ষার জন্য ইরানের শক্তি প্রয়োজন ছিল বলে জানান পেজেশকিয়ান। 

তিনি বলেন, 'যখন আপনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা করেন, তখন তারা সেটিকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘অঞ্চলের অনিরাপত্তা সৃষ্টি’ বলে আখ্যায়িত করে।'

আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) এর পরিদর্শকদের ইরানে প্রবেশ করতে দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ইসরায়েলের নিজস্ব পারমাণবিক বোমা রয়েছে, কিন্তু কখনও সেটি পরিদর্শন করা হয়নি। অথচ তারা ইরানকে পরিদর্শন করছে। ইসরায়েল মানুষ হত্যা করে, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে ইরান।'

বক্তব্যে দৃঢ়তার সাথে পেজেশকিয়ান জানান, শান্তিপূর্ণ বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে ইরান সরে আসবে না।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যকে 'আধিপত্যবাদী আচরণ' এবং 'দম্ভের' বহিঃপ্রকাশ বলে আখ্যায়িত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের হুমকি ইরানি জাতিকে আরও ঐক্যবদ্ধ করবে এবং এ জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে বলে জানান মাসুদ পেজেশকিয়ান।