যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই গভীর হচ্ছে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট। মুদ্রার রেকর্ড দরপতন, নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে কঠিন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধের প্রভাব যোগ হয়ে আবারও চাপের মুখে দেশটির অর্থনীতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পূর্তিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি। শান্তি আলোচনা স্থবির হওয়ার পাশাপাশি কঠোর নিষেধাজ্ঞার চাপে দেশটির অর্থনীতি এখন ধ্বংসের মুখে।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর আগে খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়মূল্য ছিল প্রায় ১৭ লাখ রিয়াল। ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশটির মুদ্রার মান বারবার নতুন করে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
মঙ্গলবার রেকর্ড পরিমাণ কমেছে ইরানের মুদ্রার মান। প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময়ে রিয়ালের পরিমাণ ২৫ লাখেরও বেশি। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর রিয়ালের মান কমে প্রতি ডলারে ২২ লাখ রিয়ালের রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। এরপর মাত্র ২৭ দিনের মাথায় মুদ্রার মান আরও কমে এই নতুন তলানিতে নামল।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রতি সপ্তাহেই বাজারে পণ্যের দাম বদলে যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর পর গত ৬ মাসে পণ্যের দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৫ গুণ। ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। মানবিক দিক বিবেচনায় আমার মতো অনেক ব্যবসায়ী চাইলেই পণ্যের দাম বাড়াতে পারছেন না। ফলে প্রতিদিনই ব্যবসায় ক্ষতি গুণতে হচ্ছে।
সাম্প্রতিক যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে ইরানে মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশে। আগের বছরের তুলনায় খাদ্যপন্যের দাম বেড়েছে ১২৮ শতাংশ পর্যন্ত।
আরেক ব্যক্তি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে একজনের আয়ে কোন পরিবারের টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। বাজারে সব কিছুই পাওয়া যায়, কিন্তু তা কেনার সামর্থ্য সাধারণ মানুষের নেই। ১০ দিন আগের তুলনায় এখন প্রতি কেজি চিনির দাম ১৫ হাজার থেকে ২০ হাজার তোমান বেশি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদী এই যুদ্ধ গোটা মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে খাদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। যার পরিণতি ভোগ করতে হবে গোটা বিশ্বকে।