ক্রমেই ‘নরক’ হয়ে উঠেছে গাজা, ১ বছরে প্রাণহানি ২৪ হাজারের বেশি

গাজায় প্রায় তিন বছর ধরে চলছে ইসরায়েলি আগ্রাসন। শুধু ২০২৫ সালেই প্রাণ হারিয়েছেন সাড়ে ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। বিশ্লেষকদের অভিযোগ, সামরিক হামলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্য ও সরঞ্জাম প্রবেশে বাধা দিয়ে উপত্যকাটিকে ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী করে তুলছে দখলদার ইসরায়েল। 

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর শুরু হয় গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন। ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও থামেনি হামলা। যুদ্ধবিরতির পর থেকে উপত্যকাটিতে প্রাণ গেছে প্রায় দেড় হাজার মানুষের।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ২০২৫ সালে অঞ্চলটিতে নিহত হয়েছে ২৪ হাজার ৬৫০ জন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ২৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে সরাসরি হামলায়। এছাড়া হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ।

এলাকাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে গাজা সিটিতে, ৩৭ দশমিক ৩ শতাংশ। উত্তর গাজায় ২০ দশমিক ২ শতাংশ, খান ইউনিসে ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ, মধ্যাঞ্চলে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রাফায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। একই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে শিশুমৃত্যুর হারও।

ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক ইব্রাহিম আল-মাধুনের দাবি, ইসরায়েলের লক্ষ্য এখন শুধু সামরিক স্থাপনা নয়; বরং ফিলিস্তিনিদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মৌলিক অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীও এর আওতায় পড়ছে।

তার মতে, গাজাবাসীর ওপর চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যাতে অঞ্চলটিতে বসবাস কঠিন হয়ে পড়ে এবং মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাণসামগ্রী, খাদ্য ও সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও বাধা দিয়ে আসছে ইসরায়েল। এমনকি বাস্তুচ্যুত মানুষের জরুরি আশ্রয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তাঁবুসহ বিভিন্ন সামগ্রীর সংকটও দেখা দিয়েছে। 

ফলে একদিকে হামলা ও প্রাণহানি, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট- সার্বিকভাবে ক্রমশই কঠিন হয়ে উঠছে গাজাবাসীর জীবন।