দীর্ঘদিনের ক্ষমতা, গাজা যুদ্ধের চাপ, নিরাপত্তা ব্যর্থতা ও দুর্নীতির মামলা। সব মিলিয়ে কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবারের নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপে এগিয়ে বিরোধীরা, তবে সরকার গঠন নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। এতে নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে ছোট দলগুলো। খবর রয়টার্সের।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হতে যাচ্ছে আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে। প্রায় ১৯ বছর ধরে বিভিন্ন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নেতানিয়াহু এবার মুখোমুখি হচ্ছেন এক কঠিন পরীক্ষার।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। এছাড়াও অর্থনৈতিক চাপ ও দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত তার সরকারের বিরুদ্ধে জনসমর্থন কমার ইঙ্গিত দিচ্ছে বিভিন্ন জনমত জরিপ।
ক্ষমতা হারালে বিচারপ্রক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর অবস্থান আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এমনকি ইসরায়েলি এই নেতার রাজনৈতিক সংকটের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে জনমত জরিপেও। কারণ বেশিরভাগ জরিপেই এগিয়ে আছে বিরোধীরা।
এদিকে, নেতানিয়াহুর বিপরীতে একজোট হওয়ার চেষ্টা করছেন পাঁচজন বিরোধী নেতা। কিন্তু তাদের নিজেদের মধ্যেই রয়েছে বিভিন্ন ইস্যুতে মতপার্থক্য। আর এই মতপার্থক্যকে তাদের সরকার গঠনের পথে বাধা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের এগিয়ে থাকাই ক্ষমতার পরিবর্তন নিশ্চিত করছে না। কারণ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় ছোট দলগুলোর সমর্থনই নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনে প্রয়োজন ৬১টি আসন। জনমত জরিপে বিরোধীরা এগিয়ে থাকলেও সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন নিশ্চিত নয় কোনো পক্ষেরই। তাই এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ ও ইসরায়েলের আঞ্চলিক অবস্থান।