ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ: শান্তির সংলাপ নাকি ফের সামরিক সংঘাত?

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একদিকে চলছে সমঝোতার কূটনৈতিক তৎপরতা, অন্যদিকে বাড়ছে নতুন করে সামরিক সংঘাতের শঙ্কা। হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া, আলোচনার শর্ত থেকে শুরু করে সম্ভাব্য হামলার হুঁশিয়ারি, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে ৪ নভেম্বর ইরানে মার্কিন হামলার আশঙ্কায় পাল্টা জবাবের প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। খবর রয়টার্সের।

ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সংঘাতে জড়াবে নাকি জড়াবে না? এই প্রশ্ন যেন এক বিরাট ধাঁধা বিশ্ববাসীর কাছে। সমঝোতার উদ্যোগ, মুখোমুখি আলোচনা, শেষের পথে যুদ্ধ কিন্তু ফের যুদ্ধের হুঁশিয়ারি। শব্দজটের আড়ালে তাই স্পষ্ট হচ্ছে না পরবর্তী পদক্ষেপ।

ইরানের শর্ত পূরণ হলে দুই দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কাতারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। একইসাথে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না বলেও মত তার। 

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাঠানো চিঠি পর্যালোচনা করার কথা জনিয়েছেন ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজাই। তিনি জানিয়েছেন, চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বক্তব্যের ধরনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে, যা ইতিবাচক সংকেত। 

রেজায়ি আরও বলেন, ইরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসবে না তেহরান। আলোচনার অগ্রগতির পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানের সাতটি শর্ত পূরণকে উল্লেখ করেন এই নিরাপত্তাপ্রধান। 

এরমধ্যে, ইরানের পিকঅ্যাক্স পাহাড়সহ আরও দুই একটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, এসব স্থাপনা ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ মিনিট সময় লাগবে।

তবে, ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক উপায়ে সংকট সমাধানে আগ্রহী।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন বলছে, ৪ নভেম্বর ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নতুন হামলার জবাবে কোনো প্রকার ভৌগোলিক সীমানার তোয়াক্কা না করেই পাল্টা ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।