আফগানিস্তানের সাথে ‘আপস নয়’: পাকিস্তান

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আফগানিস্তানের সাথে কোনো ‘আপস করবে না’ বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তালেবানের হামলার জবাবে পাকিস্তানও রাতারাতি প্রতিবেশী দেশটির একাধিক সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে বলে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিক ডন পত্রিকা’র এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডন-এর প্রতিবেদনে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম পিটিভি নিউজ-এর তরফ থেকে প্রকাশিত একটি এক্স পোস্টেরও উল্লেখ আছে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে পিটিভি নিউজ লিখেছে, ‘পাকিস্তান এখন পর্যন্ত আফগান সীমান্তে ১৯টি আফগান সীমান্ত চৌকি দখল করেছে, যেখান থেকে পাকিস্তানের উপর হামলা চালানো হচ্ছিল।’

নিরাপত্তা সূত্র আরও বলছে, ‘চৌকিগুলোতে উপস্থিত আফগান তালেবানদের হত্যা করা হয়েছে এবং বাকিরা প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে গেছে।’ এছাড়া কিছু চৌকিতে অগ্নিসংযোগের কথাও জানিয়েছে পাকিস্তান।

এদিকে রেডিও পাকিস্তান নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ‘পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তালেবানের মনোজবা ক্যাম্প ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, জান্দুসার পোস্ট, তুর্কমেনজাই ক্যাম্প এবং খারচর ফোর্ট সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছে।’

নিরাপত্তা সূত্র আরও বলেছে যে, আফগানিস্তানের দিক থেকে গুলি চালানোর উদ্দেশ্য ছিল খাওয়ারিজ নামের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সদস্যদেরকে সীমান্ত পার করিয়ে পাকিস্তানে প্রবেশ করানো। তবে পাকিস্তানি চৌকিগুলো সতর্ক ও প্রস্তুত থাকায় তারা দ্রুততার সাথে জোরালোভাবে এর জবাব দিয়েছে বলে দাবি নিরাপত্তা সূত্রের।

নিরাপত্তা সূত্রের উল্লেখ করে পাকিস্তানের গণমাধ্যমে আরও দাবি করা হয়েছে যে, পাকিস্তানের হামলায় ডজনখানেক আফগান সেনা ও খাওয়ারিজ সদস্য নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকটি চৌকি ছেড়ে পালিয়েছেন তালেবানরা। 

আফগানিস্তানের হামলা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি বলেছেন যে, জাতিসংঘের প্রতিবেদন প্রমাণ করে সন্ত্রাসী হামলাগুলো আফগান মাটি থেকে চালানো হয়েছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যৌথভাবে সন্ত্রাস দমন প্রচেষ্টার কথাও গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করেছেন জারদারি।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন যে, পাকিস্তান ‘তার জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’ 

জারদারি বলেন, ‘ভারতের সমর্থনপুষ্ট খাওয়ারিজ সন্ত্রাসবাদী এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীর যোগসাজশে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল থেকে হামলা চালানোর বিষয়টি এখন সুপ্রতিষ্ঠিত, যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।’ 

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন যে, পাকিস্তান বারবারই ‘স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তার বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মীদেরকে ভারতের মদদপুষ্ট খাওয়ারিজ এবং অন্যান্য জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।’ 

এর আগে আজ রোববার তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানান, আফগানিস্তানের হামলায় পাকিস্তানের ৫৮ জন সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া পাকিস্তানের ২৫টি সীমান্ত চৌকি নিজেদের দখলে নিয়েছে বলেও দাবি করেছেন তালেবান প্রশাসন।

তবে কাবুলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাবিউল্লাহ এও স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযানে ২০ জনের বেশি তালেবান যোদ্ধাও নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি পাকিস্তানি অস্ত্রসস্ত্রের একটি বড় অংশ তালেবানের দখলে আছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানী কাবুল এবং দেশের পূর্বাঞ্চলের একটি বাজারে পাকিস্তান বোমা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করে তালেবান প্রশাসন। যদিও এ হামলার দায় স্বীকার করেনি পাকিস্তান।

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইনায়াতুল্লাহ খোরাজমি বলেন, ‘পাকিস্তানের বারবার সীমান্ত লঙ্ঘন ও আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে বিমান হামলা চালানোর জবাবে আফগান বাহিনী “সফল প্রতিশোধমূলক অভিযান” চালিয়েছে। অভিযানটি মধ্যরাতে শেষ হয়।’

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাকিস্তানের হামলা অবশ্য এবারই নতুন নয়। সশস্ত্র গোষ্ঠীর আশ্রয়স্থল বলে দেশটিতে এর আগেও হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান, যেগুলোর বেশিরভাগই ছিল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে।