পাকিস্তানের দৌড়ঝাঁপ: সেনাপ্রধান গেলেন এক দেশে, প্রধানমন্ত্রী ঘুরবেন তিন দেশে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা আবারও শুরুর বিষয়ে পাকিস্তানের দৌড়ঝাঁপ চলছেই। ইরানের রাজধানী তেহরানে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। অন্যদিকে সৌদি আরবের জেদ্দায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক বৈঠকে চলমান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

এদিকে ইরানকে চাপে রাখতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানে যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসলেও তাতে কোনো ফল আসেনি। এতে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি। তবে দ্বিতীয় দফায় দুই দেশকে আলোচনায় বসাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো।

এ অবস্থায় পুনরায় আলোচনা শুরুর বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দেয়াই তাঁর এই সফরের উদ্দেশ্য। যদিও ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

অন্যদিকে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ চার দিনের সফরে বেরিয়েছেন। চারদিনে তিনি যাবেন সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে। এর মধ্যে সৌদি ও কাতারে সফরটি দ্বিপাক্ষিক, আর তুরস্কে তিনি আন্তালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে যোগ দেবেন।

তা এত প্রচেষ্টার পর ইরান আর আমেরিকার দ্বিতীয় দফা বৈঠক কি হবে? সে প্রশ্নের উত্তর কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি তেহরানের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলোর সমাধান ইরান কর্তৃপক্ষের কাছে অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই।

এদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথও বন্ধ করে দেয়া হবে। এরপর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে এই জলপথে আর কখনো অবরোধ দেয়া হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

এছাড়া ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ না করতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প। চীন এমন কিছু করছে না বলে শি চিঠির জবাবে জানিয়েছেন বলে দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন না বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।