ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাপ্রধানের বিশ্বমঞ্চে উত্থান

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি প্রতিষ্ঠায় জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। আর এই উদ্যোগের কেন্দ্রে আছেন দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির। এর আগে, ২০২৫ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ৪ দিনের যুদ্ধে কৃতিত্ব দেখিয়ে তিনি ফিল্ড মার্শাল হয়েছিলেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের ভূমিকা রাখায় অনেক আগে থেকেই আলোচনায় ছিলেন আসিম মুনির।

গত ২১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে যখন আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি এবং যুদ্ধ ফের শুরু হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ যখন তুঙ্গে, তখনই পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুরোধে অনেকটা একক সিদ্ধান্তে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। 

এর আগে, গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। এরপর ১১ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর, দু'পক্ষের মাঝে ব্যবধান ঘোচাতে ৩ দিনের তেহরান সফরেও গিয়েছিলেন তিনি। 

তবে আল জাজিরার প্রতিবেদন বলছে, শান্তি প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী আসিম মুনিরই এক বছর আগে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তানের ৪ দিনের যুদ্ধের মূল কারণ ছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারত-শাসিত কাশ্মীরে ঘটা সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে যুদ্ধে জড়ায় ভারত-পাকিস্তান। পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গোপন কূটনীতির মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয় দুই পক্ষের মধ্যে।

২০২৫ সালের ২০ মে পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রিসভা সর্বসম্মতিক্রমে আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল পদে অনুমোদন দেয়। এর মাধ্যমে ভারতের সাথে যুদ্ধে মুনিরের নেতৃত্বকে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। আইয়ুব খানের পর তিনিই তার দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় ব্যাক্তি হিসেবে এই পদমর্যাদা লাভ করেন। 

ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ইমরান খান জানান, ভারতের সঙ্গে সংঘাতটি মুনিরের বিশ্বব্যাপী উত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

তবে ইসলামাবাদ-ভিত্তিক সানোবার ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা জানান, কাশ্মীরে হামলার অনেক আগে থেকেই মুনিরের একটি ইতিবাচক মর্যাদা তৈরি হয়েছিল। পাকিস্তানের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশের সাথে যোগাযোগ স্থাপনে তিনি ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানকে অন্যান্য বড় শক্তির সাথে সম্পৃক্ত করে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিলেন সেনাপ্রধান আসিম মুনির।