৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটে আগামী অর্থবছরে ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি পূরণে এবারও ব্যাংক ঋণের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে সরকার।
অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেই প্রথম জাতীয় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি সরকার। ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার আয়ের বিপরীতে এই বিশাল ঘাটতি মেটাতে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। গত কয়েক বছরে বাজেটে ঘাটতি ধারাবাহিকভাবে দুই লাখ কোটি টাকার ওপরে অবস্থান করছে।
আগামী অর্থবছরে সরকার বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকার মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। ট্রেজারি বিল, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র বিক্রির মাধ্যমে সরকার এই অর্থ সংগ্রহ করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, 'সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে গিয়ে যেন বেসরকারি খাত শুকিয়ে না যায়, সেটা সরকার দেখবে। সে ক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে সঞ্চয়পত্র ও ট্রেজারি বন্ড বিক্রি বাড়ানো হতে পারে।'
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় ঘাটতির কারণে নতুন সরকার বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এমন পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, 'বৈদেশিক ঋণ আনা গেলে সুবিধা হয়।'
সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, 'ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে কতটুকু ঋণ নেওয়া হবে তা ভেবে দেখতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে ব্যাংক ঋণ বাড়ালে চাপ আরও বাড়বে এবং ব্যক্তি খাতের ঋণেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।'


৫ বছর অপরিবর্তিত থাকছে করপোরেট করহার
