সেকশন

মঙ্গলবার, ২১ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
Independent Television
ad
ad
 

ইস্তাম্বুলজুড়ে ৩ হাজারের বেশি ঢোলবাদক, রমজান মাসে কী করেন তাঁরা

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪, ০৭:১৫ পিএম

প্রতি রমজানে রাত্রির শেষ প্রহরে ইস্তাম্বুল শহর জেগে ওঠে ঢোলের শব্দে। একদল ঢোলবাদক সাহরির সময়ে ঢোল বাজিয়ে ঘুম ভাঙান ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের। ঢোলের শব্দে জেগে উঠে তাঁরা সাহরি খান।

তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী শহর ইস্তাম্বুলের এই সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরোনো। ইতিহাসবিদেরা বলছেন, অটোমান সাম্রাজ্যের আমল থেকে এ সংস্কৃতি চলে আসছে।

এ বছরের রমজানেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ঢোলবাদক ইস্তাম্বুলের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভোরবেলা মুসলিমদের ঘুম ভাঙানোর দায়িত্বপালন করছেন। ইস্তাম্বুলের মুখতার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপার্সন সালেমি আয়কুত বলেন, ‘এ বছর ৩ হাজার ৩৫০ জন ঢোলবাদক রমজানের ৩০ দিন ধরেই ঢোল বাজাবেন।’ 

তুরস্কে গ্রাম–প্রধান বা মহল্লা–প্রধানদের ‘মুখতার’ বলা হয়। প্রায় প্রতিটি মহল্লাতেই মুখতারদের অ্যাসোসিয়েশন বা সমিতি রয়েছে। এই সমিতিই ঠিক করে, কারা রমজানে সাহরির সময় ঢোল বাজাবেন।

ইস্তাম্বুল শহরের মুখতারদের প্রধান সালেমি আয়কুত বলেন, ‘এ বছর রমজানে কারা ঢোল বাজাবেন তা নির্বাচন করার দায়িত্ব ছিল আমার ওপর। আমার তত্ত্বাবধানে তারা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে।’

ভাবতে অবাক লাগে, ঢোল বাজানোর জন্য আবার প্রশিক্ষণ? মৃদু হেসে সালেমি আয়কুত বলেন, ‘আমাদের এই ঐহিত্য বহু বছরের পুরোনো। সুদূর অতীত থেকে ঐতিহ্যটি চলে আসছে। বলতে পারেন, অটোমান সাম্রাজ্যের সময় থেকে ঐতিহ্যটি চলে আসছে। এটির ধারাবাহিকতা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।’সাহরির সময় ঢোল বাজিয়ে মুসল্লিদের ঘুম ভাঙানো হচ্ছে। ছবি: আনাদোলু এজেন্সির সৌজন্যেসাহরির সময়ের ঢোলবাদকদের শুধু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তা–ই নয়, তাঁদের রয়েছে আলাদা পোশাকও। আলখেল্লা ধরনের এক প্রকার রঙিন পোশাক পরেন তাঁরা। মাথায় পরেন লম্বা টুপি। সালেমি আয়কুত বলেন, ‘এই পোশাকও আমাদের ঐতিহ্য। কেউ যেন আমাদের সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে অন্য পোশাক পরে ঢোল না বাজায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা হয়।’

প্রতি রাতে ভোরবেলা ইস্তাম্বুলের প্রতিটি মহল্লার রাস্তায় রাস্তায় তাঁরা এসব পোশাক পরে ঢোল বাজান আর মুখে এক প্রকার শ্লোক বলেন। অনেকটা গানের মতো এসব শ্লোক গেয়ে গেয়ে আর ঢোল বাজিয়ে তাঁরা মুসল্লিদের ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এসব শ্লোকও তাঁদের মুখস্ত করানো হয় বলে জানান সালেমি আয়কুত।

ইস্তাম্বুলে প্রায় দেড় কোটি মানুষ বাস করেন। তাঁদের ঘুম ভাঙাতে এই প্রাচীন শহরের অন্তত ৯৬৩টি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ঢোল বাজিয়ে শ্লোক আওড়ান এই ঢোলবাদকেরা।

সাধারণত একই ব্যক্তি প্রতিবছর ঢোল বাজান। কেউ কেউ ৩০ বছর ধরে বাজাচ্ছেন। আলী বুলু নামে একজন জানান, তিনি ৪৫ বছর ধরে বাহচেলিভলার জেলার সিয়াভুসপাসা পাড়ার রাস্তায় ঢোল বাজাচ্ছেন। কেউ কেউ উত্তরাধিকারসূত্রেও ঢোলবাদক হন। যেমন বুলুর ১০ বছর বয়সী ছেলে মুহাররম এখন বাবার সঙ্গে ঘুরে ঘুরে ঢোল বাজানো শিখছে।

ঢোল বাজিয়ে গান গেয়ে সাহরির জন্য ঢাকা হচ্ছে মুসল্লিদের। ছবি: এক্স থেকে নেওয়ানতুন যারা বাজাতে চান তাদেরকে মুখতার অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয়ে আবেদন করতে হয়। এটি একটি পেশা। নির্ধারিত বেতন রয়েছে। তবে অনেকেই স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতেও কাজটি করেন।

সালেমি আয়কুত বলেন, ‘তুর্কিরা ভালোবেসেই এই কাজ করেন। কোনো বাধাই রমজান মাসে তাদের বিরত রাখতে পারে না। এমনকি দুই বছর আগে করোনা মহামারির সময়েও তারা এই কাজ করেছে। সম্ভবত এটি পৃথিবীর অন্যতম বিরল পেশা, যেখানে করোনার প্রভাব পড়েনি।’

তথ্যসূত্র: ডেইল সাবাহ, আনাদোলু এজেন্সি ও টিআরটি ওয়ার্ল্ড

দেশে পালিত হচ্ছে মা দিবস। এ দিনে কোনো দেশে সন্তানেরা মাকে নিয়ে গান করে, চিঠি লেখে, খাবার খায় একসাথে, আবার কোনো দেশে দরিদ্র মায়েদের সাহায্য করা হয়। একেক দেশে একেকভাবে উদ্‌যাপন করা হয় মা দিবস। চলুন...
বিশ্বের সর্বাধিক মুসলমানের দেশ ইন্দোনেশিয়া। সেখানে মুসলিমরা রোজাকে স্বাগত জানানোর জন্য প্রতি বছর অধীর হয়ে অপেক্ষা করেন। দেশটিতে রোজাকে বরণ করার নানা আচার ও ঐতিহ্য রয়েছে। আচারগুলো শত শত বছর ধরে বংশ...
সকালে ঘুম থেকে উঠে অর্পা (ছদ্মনাম) বালিশ তুলে দেখে, ছোট্ট এক সাপ কিলবিল করছে বালিশের নিচে! ভয়ে চিৎকার করে বড়বোন স্বর্ণাকে (ছদ্মনাম) জড়িয়ে ধরে সে। স্বর্ণা হাসতে হাসতে সাপটা হাতে তুলে নিয়ে বলে, ‘এটি...
মনসুর আল হাশেমির বয়স যখন পাঁচ, তখন তিনি প্রতিবেশীদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে গান গাইতেন আর চকলেট সংগ্রহ করতেন। সেই স্মৃতি কুড়ি বছর পর আবার তাঁর জীবনে ফিরে এসেছে, যখন তাঁর বাড়ির দরজায় ছোট ছোট শিশুরা গান...
১১ বছর পর মাউন্ট এভারেস্ট শীর্ষে আরোহণ করে গত দুই দিন ধরে বাংলাদেশের পাহাড় প্রেমি মানুষের মাঝে আনন্দের কম্পন বইয়ে চলেছেন বাবর আলী। দুই দিনের ব্যবধানেই এই পর্বতারোহী আবারো খুশির ঝড় তুললেন পৃথিবীর...
ডেটা সেন্টার সক্ষমতায় অস্ট্রেলিয়া, হংকং, জাপান, সিঙ্গাপুর ও কোরিয়ার মতো দেশকে ছাড়িয়ে গেছে ভারত। বর্তমানে এ খাতে ভারতের সক্ষমতা ৯৫০ মেগাওয়াট। বৈশ্বিক রিয়েল এস্টেট কনসালটিং ফার্ম সিবিআরই প্রকাশিত...
লোডিং...

এলাকার খবর

 
By clicking ”Accept”, you agree to the storing of cookies on your device to enhance site navigation, analyze site usage, and improve marketing.