সেকশন

রোববার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
Independent Television
ad
ad
 

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে টিসিবিকে কার্যকর করা অন্যতম পথ

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:৫৮ পিএম

অর্থনীতির অন্যতম প্রধান সমস্য হলো দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, যেটাকে আমরা মুল্যস্ফীতি বলি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে সীমিত করে ফেলে। আর ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে মানুষের জীবনমান কমে যায়। দেখা দেয় সামাজিক অস্থিরতা। তাই যেকোনো দেশেই মুল্যস্ফীতি একটা বড় অর্থনৈতিক সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। 

এখন দেখা দরকার কী কারণে এটা হয়। এর অনেকগুলো কারণ আছে। একটা বড় কারণ হলো চাহিদা ও জোগানের অসামঞ্জস্য। চাহিদার তুলনায় যদি জোগান কম হয় তবে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এটা হতে পারে স্বাভাবিকভাবে, বিশেষ করে কৃষিজাত পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো কারণে ফসলহানি হলে সমস্যা দেখা দেয়। আবার কৃত্রিমভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করেও মূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করা যায়। যে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে অহরহ করা হচ্ছে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশে বর্তমানে বেশ কিছুদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। প্রায়ই কিছু সময় বিরতি দিয়ে দাম বাড়ছে একের পর এক পণ্যের। এর কারণ হিসাবে এফবিসিসিআই তিনটি কারণের কথা বলছে। এক হলো ডলারের দাম, দুই পরিবহণ খরচ আর তিন চাঁদাবাজি। আর আছে মধ্যসত্ত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য। এই তিনটি কারণ নিয়ে কারও কোনো দ্বিমত নেই। প্রথমত. যেহেতু আমাদের আমদানি ব্যয় মিটাতে হয় ডলারে তাই ডলারের দাম বৃদ্ধি পেলে স্বাভাবিকভাবে পণ্যের দাম বাড়বে। তবে সব সময় যে এগুলোই কারণ তা-ও না। কেননা দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত অনেক পণ্যের কোনো কারণ ছাড়াই দাম বাড়ে শুধু মাত্র খবরের ওপর ভিত্তি করে। যেমন হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু ভারত থেকে আমদানির খবরে তা আবার কমেছে। কিন্তু শুধু যদি সরবরাহে ঘাটতি থাকত তবে এভাবে দাম কমার প্রশ্নই উঠত না। সরকারের পক্ষে এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আনা খুব কঠিন ব্যাপার। কেননা এ সমস্ত পণ্যের যদি পর্যাপ্ত মজুদ থাকে তাহলেই শুধু দাম বাড়লে বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। কিন্তু তা না থাকলে এটা শুধু মুখের কথায় নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না । 

বাংলাদেশে ভোগ্যপণ্য ক্রয়-বিক্রয়, মজুত ও বিপণনের একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবি। যখন দেশে কোনো পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয় বা সরবরাহ জনিত সমস্যা হয় তখন টিসিবি তার ভ্রাম্যমাণ বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজার মূল্যের চেয়ে কম দামে পণ্য বিক্রয় করে থাকে । এভাবেই কাজ করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু বর্তমানে যে হারে এবং যেভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে টিসিবির পক্ষে দাম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়, কেননা তাদের হাতে পর্যাপ্ত মজুত নেই। মূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে গেলে পর্যাপ্ত মজুত থাকতে হবে, যা টিসিবির কাছে থাকে না । শতকরা অন্তত ৩০ থেকে ৪০ ভাগ মজুত থাকলে নিত্যপণ্যের দামের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনা সহজ হয়। স্বল্প আয়ের কিছু মানুষকে সাহায্য করার থেকে দেশের সার্বিক মূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি কাম্য। এক্ষেত্রে টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি হতে পারে সমাধান। 

টিসিবি দীর্ঘ দিন ধরে বাজার ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকায় এ ব্যাপারে দক্ষতা অর্জন করেছে। এই সংস্থার সবচেয়ে বড় অবদান হলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করা । এই সংস্থার হাত ধরেই তৈরি পোশাক শিল্প প্রতিষ্ঠা পায় দেশে। এখন এই সংস্থাটাকে যদি আরও বড় পরিসরে সাজান হয় তবে এটা দেশের নিত্য পণ্যের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা পালন করতে পারবে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন। প্রতিটি জেলায় যদি পণ্য ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র ও সংরক্ষণাগার গড়ে তুলতে হয় তবে বিনিয়োগ দরকার। প্রশ্ন হলো যে, সংস্থার জন্য সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয় তার সম্প্রসারণের অর্থ হচ্ছে আরও ভর্তুকি। কিন্তু এই সংস্থাকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত করার সুযোগ যে নেই তা কিন্তু না। প্রাথমিকভাবে কিছু বিনিয়োগের হয়তো প্রয়োজন হবে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে এই সমস্ত পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের যথেষ্ট সুযোগ থাকবে। এছাড়া আমদানি-রপ্তানির ক্ষমতাও এই সংস্থার রয়েছে। 

সব থেকে বড় যে সুবিধাটা তা হলো, মুদ্রাস্ফীতির ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ। কেন না নিত্য পণ্যের মজুত ও সরবরাহের ওপর যদি অন্যান্য মজুতদারেরা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ না রাখতে পারে তবে দামের ওপর তারা নিয়ন্ত্রণ হারাবে। এখন দেখা যায় কোনো কোনো নিত্য পণ্যের ক্ষেত্রে শুধু মাত্র দু-চারজন বড় আমদানীকারক ওই পণ্য আমদানি করেন, ফলে তাঁদের পক্ষে খুব সহজেই পণ্য মজুত করে মূল্য বাড়ান সম্ভব। আবার ছোট ছোট আমদানিকারকদের অনুমতি দিলে তাদের খরচ বেশি হয় এবং স্বাভাবিকভাবে তা মূল্যের ওপর পড়ে।
 

এই ক্ষেত্রে টিসিবি হতে পারে সমাধান। কারণ টিসিবিকে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানি ও মজুত করার ক্ষমতা দিলে অন্যদের মূল্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যাবে।

এছাড়া কিছু কৃষি পণ্য আছে যেমন পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, আদা, রসুন ভোজ্য তেল, চিনি ইত্যাদি পণ্য–কিছু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে হঠাৎ করে আকাশচুম্বী হয়ে যায় ।  বেশ কিছুদিন থাকার পর আবার কিছুটা দাম কমে কিন্তু আগের জায়গায় আর ফিরে আসে না। এভাবে বড় অঙ্কের মুনাফা চলে যায় এক  শ্রেণীর ব্যবসায়ীর পকেটে। অথচ আসল উৎপাদনকারিরা অর্থাৎ কৃষকরা তেমন মূল্য পায় না। আপামর জনসাধারণ ও দরিদ্র কৃষকেরা বঞ্চিত হয়।

আমাদের কৃষিজাত পণ্যের একটা বিরাট সমস্যা হল পণ্য সংরক্ষণ বিপণন ও পরিবহণ। উন্নত দেশগুলিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালিত বৃহদায়তন কৃষি খামারগুলোর এসব ব্যবস্থাই আছে। ফলে তাদের ন্যায্য মূল্য পাওয়া নিয়ে কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু আমাদের দেশে দরিদ্র কৃষকদের পক্ষে এসবের কিছুই করা সম্ভব নয়। তাই তাদের পণ্য অনেক সময় নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হয় মজুতদারদের কাছে। ঢাকা থেকে অল্প কিছু দূরে উৎপাদিত সবজি কৃষকেরা মাঠ পর্যায়ে বিক্রি করে ২০-২৫ টাকায়; আর ঢাকার বাজারে তা বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। এই অবস্থার থেকে পরিত্রাণের আরেকটা ভালো পদ্ধতি হলো সমবায়ের মাধ্যমে সংগঠিত হয়ে কৃষকেরা যদি উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিপণন কার্যক্রম চালাতে পারেন।

তাহলে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুযোগ নিতে পারবে না। এক্ষেত্রে সরকার টিসিবির মাধ্যমে বা সমবায়ের মাধ্যমে উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থায় একটা ভালো নিয়ন্ত্রণ আনতে না পারে তবে এই সমস্যা যে তিমিরে সে তিমিরেই থেকে যাবে। উৎপাদন বণ্টন ও বিপণন ব্যবস্থায়ও শৃঙ্খলা আসবে না। আর দরিদ্র কৃষক আর স্বল্প আয়ের মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার হবে। স্বল্প পরিসরে এ সমস্যার সব দিক আলোচনা করা সম্ভব নয়। শুধু সম্ভাব্য কিছু সমাধানের দিকে ইঙ্গিত করা যায়। তবে মূল কথা হলো নিত্য পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ কোন ব্যবস্থায় হবে, টিসিবির মাধ্যমে নাকি অন্য কোনো উপায়ে তা পরিকল্পনাবিদেরা নির্ধারণ করবেন। কিন্তু যেভাবেই হোক এর একটা বিহিত করতে হবে খুব শিগগির।

লেখক: প্রাবন্ধিক

সংবাদমাধ্যমের খবরে প্রকাশ, রোজা শুরুর খবরেই নিত্যপণ্যের পুরো বাজার অস্থির হয়ে গেছে। লেবুর হালি কখনো কিনতে হচ্ছে ৮০ বা ১০০ টাকায়। আবার কখনো তরমুজের দাম বেড়ে আকাশ ছুঁতে চাইছে। রমজানের প্রথমদিনই লেবু,...
মাদারীপুরের কালকিনিতে মাটির গর্তের মধ্যে থেকে মাছরাঙ্গা পাখির ছানা ধরতে গিয়ে বিষাক্ত সাপের ছোবলে আবু হুজাইফা (১১) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্য হয়েছে। নিহত আবু হুজাইফা পৌর এলাকার চরবিভাগদী...
সোমালি জলদস্যুদের জিম্মি দশা থেকে মুক্ত বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ কাল রোববার বিকালে দুবাইয়ের আল-হামরিয়া বন্দরে নোঙর করবে। জাহাজের মালিকপক্ষ এস আর শিপিং আগে জানিয়েছিল জাহাজটি ২২ এপ্রিল দুবাই...
বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ)গোলাগুলিতে নিহত সেনাসদস্য মো: রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পাকিস্তানের ক্রিকেটে অনেক নাটকীয়তার পর অবসর ভেঙে ফিরেছেন পেসার মোহাম্মদ আমির ও স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই দুই ক্রিকেটারকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।...
লোডিং...

এলাকার খবর

 
By clicking ”Accept”, you agree to the storing of cookies on your device to enhance site navigation, analyze site usage, and improve marketing.