ইসরায়েলের হামলায় কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে ইরান 

ইরানের একাধিক সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ১ অক্টোবরের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও তেল আবিবে তেহরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রায় মাসব্যাপী হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। 

এ নিয়ে এক বিবৃতিতে আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইসরায়েল রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত আক্রমণের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে।
 

গত বছরে ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের গাজার স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ইসরায়েলে হামলার পর থেকে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এই হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে তেলআবিব। পরে ১০ অক্টোবর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানান, ইসরায়েলে হামাসের হামলায় তেহরানের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। এই হামলাকে ইসরায়েলের জন্য অপূরণীয় সামরিক পরাজয় বলে আখ্যা দেন খামেনি। 

এরপর গত ২ ডিসেম্বর সিরিয়ায় ইসলামি বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর (আইআরজিসি) দুই সদস্যকে হত্যা করে ইসরায়েল। 

গত ১ এপ্রিল দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলা হয়। এতে ইরানের সাত কর্মকর্তা নিহত হন। এ হামলার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে ইরান। এর জবাবে গত ১৩ এপ্রিল ইরান ইসরায়েলে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এটি ছিল ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ইরানের প্রথম সরাসরি আক্রমণ। এ সময় আমেরিকা জানায়, ইসরায়েলের প্রতি তাদের লৌহদৃঢ় সমর্থন থাকবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় যুদ্ধের শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। এর জবাবে ইরানেও ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। 

ঘটনার নতুন মোড় নেয় গত ৩০ জুলাই। ইরানের প্রেসিডেন্টের শপথ অনুষ্ঠানে গিয়ে তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত নিহত হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া। এরপর দিন ৩১ জুলাই খামেনি জানান, ইসরায়েল কঠোর শাস্তির পেতে ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে। 

গত সেপ্টেম্বরে লেবাননভিত্তিক শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরুল্লাহকে হত্যা করে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এর পাশাপাশি তারা লেবাননেও হামলা জোরদার করতে থাকে।  এর জবাবে ১ অক্টোবর ইসরায়েলে প্রায় ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। এরপরই তেহরানের হামলার প্রতিশোধমূলক হামলার পরিকল্পনা করে আসছিল তেল আবিব। তবে ইরানের তেল ও পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার পরিকল্পনায় সমর্থন দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।
 

এখন প্রশ্ন হলো ইসরায়েলের এবারের হামলার পর কী তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে? কিংবা ইরান এখন কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সাংবাদিক আজাদেহ মোশিরি জানান, এই হামলার পর দুটি প্রশ্নকে সামনে আনছে। একটি হলো ইরানের কেমন ক্ষয়ক্ষতি হলো। আরেকটি হলো তেহরান সমর্থিত বাহিনীগুলো ইসরায়েলের হামলা কোণঠাসা হয়ে পড়ার পর ইরান প্রতিক্রিয়া দেখাবে কিনা। কারণ এরইমধ্যে হামাস নেতা হানিয়া, হিজবুল্লাহ নেতা নাসরুল্লাহকে হত্যা করতে সক্ষম হয়েছে ইসরায়েল।    

ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো দাবি করছে, ইসরায়েল ইরানে ব্যর্থ হামলা চালিয়েছে। তবে এ প্রতিক্রিয়াকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে তাঁদের শঙ্কা, হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতি বেশি হলে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। 
  
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা, সিএনএন