ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) বা বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের ব্যবসা যারা করেন তাঁরা রসিকতা করে বলে থাকেন, ‘এফএক্স মানে হলো– ফরগটেন এক্সচেঞ্জ বা ভুলে যাওয়া লেনদেন’। অর্থনৈতিক সংকট বা অস্থিতিশীলতাকে কাজে লাগিয়ে মুদ্রা ব্যবসায়ী ও পুঁজিবাজারের লেনদেনকারীদের বেশি মুনাফা করার সুযোগ বোঝাতে এই রসিকতা করা হয়ে থাকে।
২০০৭-০৯ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক সংকটের সময় পরিস্থিতি মোকাবিলায় ধনী দেশগুলো সুদের হার শূন্যের কোটায় নিয়ে আসে। উদীয়মান অর্থনীতিগুলো কঠোর মুদ্রানীতি গ্রহণ করে। ফলে বাজারের অস্থিতিরতা কেটে যায়। এর সঙ্গে সঙ্গে মুনাফাও কমে আসে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর মুদ্রাবাজার নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে যেন। গত এপ্রিলে মার্কিন ডলারের মান সূচক (ডিএক্সওয়াই) গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে যায়। অন্য বহুল ব্যবহৃত মুদ্রাগুলোর তুলনায় ডলার কতটা শক্তিশালী বা দুর্বল তা বোঝাতে ডিএক্সওয়াই ব্যবহার করা হয়।
এনসিএফএক্স নামের একটি তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পল ল্যামবার্ট বলেন, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে লেনদেন ব্যাপক হারে বেড়েছে। সিএমই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা ও নানা নীতিগত চমকের কারণে বাজারে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পরদিনই ইবিএস প্ল্যাটফর্মে লেনদেন ১৪৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, যা ছিল কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। জার্মানির প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য চুক্তির খবর প্রকাশের পরও ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার লেনদেন হঠাৎ বেড়ে যায়।
অপটিভারের জন রথস্টেইন জানান, অপ্রত্যাশিত ঘটনা বা ঘোষণার সঙ্গে মুদ্রাবাজারের সংযোগটা বেশ দ্রুত ঘটে। সারা বিশ্বে এই বাজারে দৈনিক প্রায় ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার লেনদেন হয়। এটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। তাই বিনিয়োগকারীরা খবর পাওয়ার পরই এই বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। উদাহরণ হিসেবে ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণার কথা বলা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তিনি এই ঘোষণা দেন। কয়েক ঘণ্টার মাথায় এশিয়ার স্থানীয় সময় সকালে মুদ্রার বেচা-কেনা বেড়ে যায়।
দেখা গেছে, ট্রাম্পের নতুন শুল্ক ঘোষণার পর বহুজাতিক কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীরা মুদ্রার ঝুঁকি কমানোর জন্য বেশি লেনদেন করছে। কোম্পানিগুলো বৈদেশিক আয়ের এবং খরচের ঝুঁকি কমাতে চায়। আর বিনিয়োগকারীরা বিদেশে তাদের আয়ের সুরক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এই পরিস্থিতিতে কিছু বিনিয়োগকারী মুদ্রার মান ওঠানামাকে লাভের মোক্ষম উৎস মনে করেন।
এই পরিস্থিতিতে কিছু ব্যাংক আবার মুদ্রা লেনদেনের জন্য আলাদা টিম গঠন করেছে। অথচ এসব টিম আর্থিক সংকট ও অ্যালগরিদমের কারণে এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। জেপি মর্গ্যান ব্যাংকের স্টিফেন জেফারিস বলছেন, ‘বাজার যখন অস্থির হয়ে পড়ে, তখন গ্রাহকেরা প্রকৃত কারও সঙ্গে কথা বলতে চান। তাই নতুন জনবল দরকার’। কিন্তু তাঁর প্রতিষ্ঠান এখনই নতুন লোক নিয়োগ দিচ্ছে না। তবে মুদ্রা বাজারের চলমান অস্থিরতা আরও কিছু দিন চলবে বলে মনে করেন তিনি।
নিবন্ধটি দ্য ইকোনমিস্ট থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন তামান্না-ই-জাহান