রাশিয়া নিয়ে ইউরোপের সুর কি নরম হচ্ছে?

ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপের দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থানে পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালির নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতার সুর উঠে আসছে। এই নরম অবস্থান কি নীতিগত পরিবর্তন, নাকি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও বৈশ্বিক চাপের ফল—তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে একজোট ছিল জার্মানি, ফ্রান্স ও ইতালি। একের পর এক নিষেধাজ্ঞা, কূটনৈতিক চাপ আর ইউক্রেনকে সমর্থনের নীতিতে অটল ছিলেন তিন দেশের নেতা। তবে সম্প্রতি সেই অবস্থানে পরিবর্তনের আভাস মিলছে।

রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বা ‘ব্যালেন্স’ তৈরির কথা বলেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ। একই সুরে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে কথা না বলার নীতি বোকামি। এমনকি মেলোনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে রাশিয়ার জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগের প্রস্তাবও দিয়েছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের বক্তব্যকে ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, গত এক দশক ধরে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি ছিল রাশিয়ার প্রতি অত্যন্ত কঠোর।

তাহলে এই পরিবর্তন কি নীতিগত, নাকি রাজনৈতিক কৌশল?

বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার বিরোধী নীতি ও ইউক্রেনের প্রতি অন্ধ সমর্থনে বিরক্ত জার্মানির একটি বড় অংশের ভোটার। এর প্রভাবে দেশটিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ডানপন্থী দল এএফডি, যা চ্যান্সেলর মার্জের দল সিডিইউর জন্য বড় রাজনৈতিক হুমকি।

এ ছাড়া ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক সংকট, জ্বালানি সমস্যা ও ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটন এখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘ইউরোপের সমস্যা’ হিসেবে দেখছে। নতুন মার্কিন নিরাপত্তা নীতি, বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্কারোপ, ভেনেজুয়েলা ইস্যু ও গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ককে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকির ফলে ইউরোপীয় নেতারা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। অনেকের ধারণা, বর্তমানে ইউরোপের জন্য মস্কো নয়, বরং ওয়াশিংটনের অস্থির কূটনীতিই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুর নরম হলেও এখনই ইউরোপের রাশিয়া নীতিতে আমূল পরিবর্তন আসবে—এমনটা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।