আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এখন আর কেবল গোলাবারুদ কিংবা কামানের গর্জনে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হচ্ছে না, বরং আকাশজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত ড্রোন ও রোবট। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে রাশিয়া ও ইরান যে ড্রোন কৌশল দিয়ে দাপট দেখাতে চেয়েছিল, সেই একই পথে হেঁটে এখন তাদের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে কিয়েভ। প্রযুক্তির এই লড়াই শুধু ইউক্রেন সীমান্তেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থ ও ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে এক সুতোয় গেঁথেছে। ওয়াশিংটন ও কিয়েভের এই সমন্বিত প্রতিরক্ষা কৌশল কীভাবে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স বিশ্লেষক ব্রেট এইচ. ম্যাকগার্ক।
গত সপ্তাহে ড্রোন ও রোবট ব্যবহার করে চালানো এক হামলায় শত্রুপক্ষের একটি অবস্থান দখল করা হয়েছে। রাশিয়ার একটি ঘাঁটিতে নিজ বাহিনীর এই হামলার বর্ণনা দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ এখানেই।’ তিনি দাবি করেন, মানব ইতিহাসে এটিই প্রথম এ ধরনের সফল হামলা।
জেলেনস্কির এই দম্ভোক্তি মস্কোর জন্য বিস্ময়কর হতে পারে। কারণ ইরানকে সঙ্গে নিয়ে রাশিয়া মনে করত, ইউক্রেন যুদ্ধে তারাই ড্রোন লড়াইয়ে পারদর্শী হয়ে উঠছে। তার বদলে ইউক্রেন এখন উদ্ভাবনী শক্তিতে রাশিয়াকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিগুলো দুর্বল করে দিচ্ছে, যা ২০২৩ সাল থেকে ইউক্রেনের শহর ও জনপদগুলোতে রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে আসছিল।
ইউক্রেন ও ইরান– এই দুই রণক্ষেত্রকে আন্তঃসংযুক্ত হিসেবে দেখলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে ভবিষ্যতের যুদ্ধের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে এবং শত্রুদের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকতে সাহায্য করতে পারে। এটি ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানেও সহায়ক হতে পারে।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু যখন আমেরিকানরা
ব্রেট এইচ. ম্যাকগার্ক লিখেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, সেই পুরোটা সময় আমি হোয়াইট হাউসের হয়ে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। সব দিক থেকেই এটি ছিল গত দুই দশকের মধ্যে দেখা আমার জন্য সবচেয়ে জটিল ও ভয়াবহ পরিস্থিতি– এর অন্যতম কারণ ছিল ইরান শুরুতেই এই বিশৃঙ্খলায় যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে আমেরিকানদের ওপর হামলা চালায়।
২০২৩ সালের বড়দিনে উত্তর ইরাকে আমেরিকান অবস্থানে ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন দিয়ে চালানো এক জটিল হামলায় একজন আমেরিকান সৈন্য গুরুতর আহত হন। এর এক মাস পর, ২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি জর্ডানে ইরানি ড্রোনের আঘাতে তিন আমেরিকান সৈন্য নিহত হন।
একই মাসে লোহিত সাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ১৮টি আত্মঘাতী ড্রোন, দুটি জাহাজবিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাক-৪ গতিতে ধাবমান একটি জাহাজবিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করে। শুধুমাত্র উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং আমাদের নাবিকদের দক্ষতার কারণে ওই হামলায় কোনো আমেরিকান হতাহত হননি।
ইরান ও রাশিয়া একই প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করছে
ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের শুরুর মাসগুলোতে ইরান তাদের শাহেদ ড্রোনগুলো রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করে, যাতে সেগুলো ইউক্রেনের শহর, জনপদ ও অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়। পরবর্তীতে ইরান ড্রোন তৈরির প্রযুক্তিও হস্তান্তর করে এবং রাশিয়ার ভেতরেই যৌথ উৎপাদন লাইন স্থাপন করে। এসব অ্যাসেম্বলি লাইনে শিগগিরই প্রতিদিন প্রায় ৪০০টি শাহেদ ড্রোন তৈরি হতে শুরু করে।
ইরানি ড্রোনের এই গণউৎপাদনের ফলে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুগুলোর ওপর রাশিয়ার নিয়মিত ‘ঝাঁক বেঁধে হামলা’ (সোয়াম অ্যাটাক) শুরু হয়, যা বিশ্ব এর আগে কখনও দেখেনি। এরপর ইরানও একই কৌশল গ্রহণ করে– ২০২৪ সালের ১৩ এপ্রিল তারা ইসরায়েলি শহরগুলোতে ১৮০টি শাহেদ ড্রোন, ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩০টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই কৌশলের লক্ষ্য হলো ড্রোনের ঝাঁক ব্যবহার করে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ব্যস্ত ও ক্লান্ত করে ফেলা, যাতে ভারী এবং দ্রুতগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানতে পারে।
রাশিয়ার পাল্টা জবাবে ইউক্রেনের উদ্ভাবনী শক্তি
গত চার বছরের যুদ্ধে বাধ্য হয়েই আত্মরক্ষার প্রয়োজনে ইউক্রেন নিজস্ব বিশ্বমানের ড্রোন উৎপাদন ও প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে। গ্যারেজে থাকা মায়েদের থেকে শুরু করে স্টার্টআপের কোডার কিংবা সম্মুখসমরের সৈন্য– সবাই মিলে রিয়েল টাইমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে একটি বিকেন্দ্রীভূত প্রতিরক্ষা শিল্প দাঁড় করিয়েছেন। এভাবে দেশটিতে আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক ড্রোনের এমন এক অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যার সঙ্গে পাল্লা দিতে রাশিয়া হিমশিম খাচ্ছে।
বর্তমানে রাশিয়া প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ড্রোন তৈরি করলেও অভিযোজন ক্ষমতা ও কার্যকারিতার দিক থেকে ইউক্রেন অনেক এগিয়ে। সম্মুখসমরে এখন ইউক্রেনীয় ড্রোনের আধিপত্য চলছে, যার আঘাতে প্রতি সপ্তাহে হাজার হাজার রুশ সৈন্য হতাহত হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এক ইউক্রেনীয় সৈন্য বলছিলেন– কোনো রুশ সৈন্যই এখন খোলা ময়দানে নামতে পারে না ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাত না খেয়ে।
হাডসন ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেন যুদ্ধে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ড্রোন ব্যবহার করছে। এগুলো রাশিয়ার অনেক গভীরে গিয়ে আঘাত হানছে এবং রাশিয়ার পুরনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিচ্ছে। সম্মুখসমরে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের ক্ষেত্রে এই ড্রোনগুলো বড় ভূমিকা রাখছে, যা বর্তমানে রাশিয়ার প্রায় ৮০ শতাংশ হতাহতের কারণ। এই ড্রোনগুলো ইউক্রেনীয়দের জীবনও রক্ষা করছে, প্রতিরক্ষামূলক ড্রোন সিস্টেমগুলো পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিবন্ধকের মাধ্যমে রুশ ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলোকে ভূপাতিত করছে।
গত সপ্তাহের একটি হামলায় ইউক্রেন রাশিয়ার পাঠানো ৩২৪টি ড্রোনের মধ্যে ৩০৯টিই রুখে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রাশিয়া এখনও ইউক্রেনের ওপর প্রাণঘাতী ঝাঁক বেঁধে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে, যেমনটি এই সপ্তাহেও দেখা গেছে যেখানে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। তবে সংখ্যা ও পরিমাণের দিক থেকেও ইউক্রেন দ্রুত রাশিয়ার কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, তারা কেবল এই বছরেই ৭০ লাখের বেশি ড্রোন তৈরির পরিকল্পনা করেছে– উৎপাদনের এই হার অধিকাংশ পশ্চিমা প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষেও ধরাছোঁয়া অসম্ভব।
ইউক্রেনীয় ড্রোনগুলো খরচ সাশ্রয়ীও বটে। ইউক্রেনের একটি স্বাধীন নিরাপত্তা কেন্দ্র স্নেক আইল্যান্ড ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার একটি শাহেদ ড্রোন তৈরি করতে যেখানে ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার খরচ হয়, সেখানে ইউক্রেনের একটি ইন্টারসেপ্টরের খরচ তার চেয়ে দশগুণ কম (৩ থেকে ৫ হাজার ডলার)।
ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের জবাব
ইরানে চলমান যুদ্ধের পেছনে থাকা নানা ব্যাখ্যার মাঝে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সবচেয়ে স্পষ্ট যুক্তিটি তুলে ধরেছেন। গত এক দশকে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের এমন এক উন্নত কর্মসূচি তৈরি করেছে যে, এটি খুব শিগগিরই তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর কর্মকাণ্ড রক্ষায় একটি ‘অভেদ্য ঢাল’ হিসেবে কাজ করবে।
তার কথার অর্থ হলো, এই কর্মসূচি সংখ্যা এবং উৎকর্ষের দিক থেকে এতটা এগিয়ে যাচ্ছে যে, এটি বিদ্যমান যে কোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাভূত করতে পারে এবং এই কর্মসূচিকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্যে চালানো যেকোনো আক্রমণকে প্রতিহত করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদরা একে ‘জোন অব ইমিউনিটি’ বা দায়মুক্তির বলয় হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে ইরান এমন এক প্রতিরোধ কাঠামো গড়ে তুলবে যার ফলে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সামরিকভাবে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।
গত এক দশকে ইরান যাকে ‘অ্যারোস্পেস প্রোগ্রাম’ বা মহাকাশ কর্মসূচি বলে অভিহিত করে, তার অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর লক্ষ্যভেদের ক্ষমতা, পাল্লা এবং বিধ্বংসী ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে– আগে যা লক্ষ্যবস্তুর কয়েক মাইলের মধ্যে আঘাত হানত, এখন তা কয়েক ফুটের মধ্যে আঘাত করতে সক্ষম। ২০১৫ সালে যা একটি সাধারণ ‘স্কাড’ সদৃশ কর্মসূচি ছিল, ২০২৫ সালে এসে তা কৌশলগত ও আমূল পরিবর্তনকারী এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং ওই অঞ্চলে যেকোনো মার্কিন অবস্থানকে হামলার ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
ব্রেট এইচ. ম্যাকগার্ক বলেন, বর্তমান যুদ্ধে আমরা এর একটি আভাস পেয়েছি। এই কর্মসূচিকে যদি তার রৈখিক গতিতে এগিয়ে যেতে দেওয়া হতো, তবে কয়েক বছর পর পরিস্থিতি সম্ভবত আরও ভয়াবহ হতো।
সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান হামলাগুলো ইরানের এই মহাকাশ স্থাপনাগুলোকে ভূগর্ভস্থ মজুত কেন্দ্র, উৎপাদন কেন্দ্র এবং যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানা লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এই কর্মসূচিকে কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া এবং এই সময়ের মধ্যে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলোকে আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি করা।
ত্রাতা হিসেবে জেলেনস্কি
ইরান যুদ্ধের একটি স্থায়ী স্মৃতি হয়ে থাকতে পারে যুদ্ধের চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সফর। তিনি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতার সফর করেন। কারণ দেশগুলো তার নিজের দেশের মতোই শত শত ড্রোনের হুমকির মোকাবিলা করছিল।
জেলেনস্কি সেখানে কেবল নৈতিক সমর্থন দিতে যাননি। তিনি ইরানের ড্রোনের ঝাঁক থেকে সুরক্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি লোকবল, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান এবং একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাব নিয়ে গিয়েছিলেন। উপসাগরীয় এই তিন দেশ এখন ইউক্রেনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তারা ইউক্রেনের বিশ্বমানের ড্রোন কর্মসূচিতে তাদের বিশাল সম্পদ ও বিনিয়োগ দিয়ে সহায়তা করছে, যা ইরান ও রাশিয়ার পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
কৌশলগত ঐক্য
ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধ যে একে অপরের সঙ্গে জড়িত, জেলেনস্কি তা প্রমাণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র নিয়মতান্ত্রিকভাবে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির নকশা তৈরি, উৎপাদন এবং উন্নয়নের তাৎক্ষণিক সক্ষমতা উপড়ে ফেলছে। অন্যদিকে ইউক্রেন সেই ব্যবস্থাগুলোকে প্রতিহত ও পরাস্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদ্ধতিগুলো পরিকল্পিতভাবে তৈরি ও মোতায়েন করছে। একইভাবে হোয়াইট হাউসেরও উচিত হবে না এই দুটি অভিযানকে আলাদা করে দেখা।
রাশিয়া ও ইরানের হুমকির মুখে থাকা অংশীদারদের সমর্থনে পশ্চিমা দেশগুলোর এক হওয়ার এখনই সময়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচির অবনতি এবং এর সঙ্গে ইউক্রেনের উদ্ভাবনী শক্তি, যা সম্ভাব্যভাবে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিচ্ছে। পশ্চিমা জোটের পক্ষে এবং শত্রু জোটের (ক্রিঙ্ক বা সিআরআইএনকে–চীন, রাশিয়া, ইরান, উত্তর কোরিয়া) বিরুদ্ধে সুবিধা পাওয়ার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে।
দুর্ভাগ্যবশত, ওয়াশিংটন এই সুযোগ হাতছাড়া করছে বলে মনে হচ্ছে। তারা আবারও ন্যাটো ত্যাগের হুমকি দিচ্ছে এবং রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি প্রচেষ্টায় ব্যর্থতার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করছে।
ট্রাম্প যদি চান তাঁর ইরান অভিযান একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার হয়ে থাকুক, তবে তিনি জেলেনস্কির দিকে তাকাতে পারেন– যিনি যুদ্ধের সবচেয়ে উত্তপ্ত সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া একমাত্র নেতা। ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বড় অংশ ধ্বংস করার পর, এখন ইউক্রেনের সক্ষমতা শক্তিশালী করার সময়। এটি করার মাধ্যমেই প্রেসিডেন্ট শেষ পর্যন্ত সেই প্রভাব বা ‘লিভারেজ’ খুঁজে পেতে পারেন, যা ইউক্রেন যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য তাঁর প্রয়োজন।



